অবশেষে গাবতলী বাস টার্মিনালের বাগানের শতাধিক বৃক্ষ নিধন স্থগিত করা হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পূর্বনির্দেশিত বাগানের স্থানে টয়লেট নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ। গত ১ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে ‘সবুজ বাগান ধ্বংস করে হবে টয়লেট ও কাউন্টার’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে রবিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ ঘটনাস্থল সরেজমিন করে এর সত্যতা পায়। এরপর বাগানের বৃক্ষ নিধন করে টয়লেট নির্মাণের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে দেয়।
প্রকাশিত সংবাদের বলা হয়, প্রায় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যে ও ৪৫ ফুট প্রস্থের বাগানটিতে আমড়া, তুেঁতল, আম, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নিম, মেহগনি, বাগান বিলাস, জামসহ নানা প্রজাতির প্রায় ১০০ গাছ আছে। কোনো কোনো গাছের বয়স ১৪ বছরেরও বেশি। ক্লান্ত যাত্রীরা তপ্ত রোদ থেকে রক্ষা পেতে বাগানের গাছগুলোর ছায়ায় আশ্রয় নেন। চলতি বছর গাবতলী বাস টার্মিনাল শামীম খানের মালিকানাধীন রাফি ট্রেডার্স নামে প্রতিষ্ঠানটি ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ইজারা নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিবহন শাখায় একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, বাস টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত টয়লেট নেই। টয়লেট সংকটের কারণে প্রায়ই যাত্রীরা বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ টয়লেট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
গতকাল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখতে পেয়েছি, বাগানের গাছ কেটে টয়লেট নির্মাণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। বর্তমানে বাস টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য পাঁচটি টয়লেট রয়েছে। এর মধ্যে একটি টয়লেট টিপটপ অবস্থায় রয়েছে। বাকি চারটি টয়লেট ব্যবহারের একেবারে অনুপযোগী। ইজারাদার প্রতিষ্ঠানকে টয়লেটগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টয়লেটগুলো সিটি করপোরেশন সংস্কার করে দেবে। বাগানের সামনে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পথচারীদের মূত্রত্যাগ রোধ করতে এর দেওয়াল অর্ধেক ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এজন্য কেউ একটিও গাছ কাটতে পারবে না। সামনের উঁচু দেওয়াল অর্ধেক করে দেওয়া হলে পথচারীরা সেখানে লজ্জায় মূত্রত্যাগ করবে না, এমন আশা করা যায়।