ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল অংশে বিভিন্ন স্থান দখল করে অবৈধভাবে বালু রাখায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। এছাড়াও এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার বিভিন্ন স্থানের পাঁচ থেকে সাত ফুট জায়গা দখল করে বালু কেনা-বেচা করছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। এমনকি মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে ইট-বালু রেখে সাব-ঠিকাদারির ব্যবসাও চালাচ্ছে ঐ শ্রেণি। ফলে রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হচ্ছে। ইতিমধ্যে সড়কের ঐসব স্থানে কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। মোটরসাইকেলের চালক আলম বলেন, মহাসড়কে বালু রাখার কারণে বাইক চলাচলে খুবই অসুবিধা হচ্ছে। যখন একটি গাড়ি আরেকটি গাড়িকে ওভারটেক করে তখন আমাদের বালুর ওপর দিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে হয়। এতে মোটরসাইকেল চালকদের বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়তে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রাকচালক বলেন, আমাদের মধ্যে অনেকেই কিছু বালু মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে যায়। আর বাকি অংশ বালু আসল মালিকের কাছে পৌঁছে দেয়। এভাবে গোপনে জমা করা বালু পরে বিক্রি করে দেয়। পথচারী এমদাদ হোসেন বলেন, দ্রুতগামী গাড়িগুলোর পাশ দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে আমাদের চলতে হয়। যদিও মানুষের চলার কথা ফুটপাত দিয়ে। কিন্তু মানুষকে চলতে হচ্ছে রাস্তার মাঝখান দিয়ে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের ময়মনসিংহ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে জানতে পেরে দুই মাস আগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করি। তখন মহাসড়কের সব বালু বাইরে ফেলে দেই। পাশাপাশি বেশ কয়েক জনকে জরিমানাও করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এর পরের দিন থেকেই দ্বিগুণ হয়ে যায় তাদের বালু রাখা। এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা জরুরি। আমাদের লোকবল কম। প্রশাসনের সাহায্য ছাড়া কিছু করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে পুলিশ ও ডিসি অফিসে পত্র দিয়েছি।
ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মহাসড়কে বালু রাখার বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। কোন কোন পয়েন্টে বালু রাখা হয়েছে তা জেনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।