পাবলিক পরীক্ষাসংক্রান্ত জটিলতার সহজ সমাধান!

গত ১৬-৭-২০২১ তারিখে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ২০২১ সালের এসএসসি বা সমমান পরীক্ষাসংক্রান্তসংবাদ পরিবেশিত হয়। সেখানে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার শর্তে পরীক্ষা দুটো যথাক্রমে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণা রয়েছে। নৈর্বাচনিক বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্ট, জেএসসি বা সমমান, এসএসসি বা সমমান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেকর্ডকৃত মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরীক্ষাগুলোর রেজাল্ট দেওয়ার কথাও বলা হয়। কিন্তু শুধু অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়, কারণ বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে প্রশ্নের সমাধান লিখে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়। এমনকি অন্যের মাধ্যমে তৈরি করা অ্যাসাইনমেন্টও অনেক শিক্ষার্থী জমা দিচ্ছে। এতসব বিকল্প সুযোগ উন্মুক্ত থাকায় স্ব-প্রতিষ্ঠান তো নয়ই বরং খাতা অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দিয়ে মূল্যায়নেও দেখা দেবে পক্ষপাত যা কোনো দৈবচয়নের মাধ্যমে সংশোধন সম্ভব নয়। এ সমস্যা নিরসনে আমি সবিনয়ে কিছু সুপারিশ পেশ করছি—

১) এসএসসি বা সমমান এবং এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের মধ্য থেকে চারটি করে অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে সেখান থেকে ২০ শতাংশ নম্বর নেওয়া যেতে পারে।

২) এসএসসি বা সমমানের ক্ষেত্রে জেএসসি বা সমমানের এবং ৯ম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল থেকে (১০ শতাংশ+১০ শতাংশ) বা ২০ শতাংশ নম্বর নেওয়া যেতে পারে।

৩) এইচএসসি বা সমমানের ক্ষেত্রে জেএসসি বা সমমান এবং এসএসসি বা সমমান থেকে (১০ শতাংশ+১০ শতাংশ) বা ২০ শতাংশ নম্বর নেওয়া যেতে পারে।

৪) প্রত্যেক বিষয়ের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ওপর নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার আয়োজন করে অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ নম্বর সংগ্রহ করা যেতে পারে।

৫) নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার প্রশ্নের সেট সংখ্যা করা যেতে পারে ২০টি, যার ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের কোনো সুযোগই থাকবে না।

৬) নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা হতে পারে সম্পূর্ণ সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের মধ্য থেকে।

৭) শর্ত হতে পারে যে, নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার নম্বরের শতকরা হার অ্যাসাইনমেন্টের নম্বরেও বজায় রেখে চূড়ান্ত রেজাল্ট দেওয়া হবে।

বিজয় গোলদার

সহকারী শিক্ষক,

কুলপদ্বী উচ্চ বিদ্যালয়, মাদারীপুর