মুস্তাফিজের কাটারের ধার দেখল অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস রিপোর্টার

চিরাচরিত স্লো, লো বাউন্সের রূপটা হারায়নি মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট থেকে। উইকেট যখন মন্থর ও বল ধরে আসে, মুস্তাফিজুর রহমান বল হাতে ততই ক্ষুরধার হয়ে ধরা দেন। কয়েক বছর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ বাঁহাতি পেসার বলেছিলেন, উইকেট স্লো বল গ্রিপ করলে আমার জন্য ভালো।

উইকেটের মন্থরতায় মুস্তাফিজের কাটার বেশি কার্যকর হয়। এটি ক্রিকেট দুনিয়ার কাছেও অজানা নয়। গতকাল মিরপুরে কাটারের ধার দেখল অস্ট্রেলিয়াও। প্রথম ম্যাচে স্পিনাররাই কাবু করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের। গতকাল বল হাতে এগিয়ে এলেন পেসাররা। বিশেষ করে মুস্তাফিজ।

কাটার মাস্টার ২৩ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। জশ ফিলিপে, ম্যাথু ওয়েড ও অ্যাস্টন অ্যাগারকে ফেরান তিনি। যার মধ্যে শেষ দুটি উইকেট নিয়েছেন পরপর দুই বলে। এ ফরম্যাটে মুস্তাফিজের শিকার সংখ্যা এখন ৬৬। ৯৭ উইকেট নিয়ে শীর্ষে সাকিব।

গতকাল বাংলাদেশের বোলারদের তোপে বড় স্কোর পায়নি অস্ট্রেলিয়া। তবে প্রথম ম্যাচের তুলনায় ব্যাটিংয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে সফরকারীদের। অবশ্য ১৩ রানের এ উন্নতিতে খুব সন্তুষ্ট হওয়ার কথা নয় অজিদের। টস জিতে আগে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে ১২১ রান তুলেছিল।

একটু সাবধানি শুরুর চেষ্টা দেখা গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার ওপেনারদের মধ্যে। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বাংলাদেশ ব্রেক থ্রু এনে দেন মেহেদী হাসান। ১১ রান করে নাসুমের হাতে ক্যাচ দেন অ্যালেক্স ক্যারি (১১)। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মুস্তাফিজ বোল্ড করেন জশ ফিলিপেকে (১০)। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছিল দলটি।

তৃতীয় উইকেটে মিচেল মার্শ-মোসেস হেনরিকস প্রতিরোধ গড়েন। আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে সফল হননি তারা। তাদের ৫৭ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব। তাকে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন অভিজ্ঞ হেনরিকস। তিনি ৩০ রান করেন। প্রথম ম্যাচের মতোই একপ্রান্ত আগলে দলকে টেনেছেন মার্শ। ইনিংসের ১৭তম ওভারে তাকে থামিয়ে দেন শরীফুল। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়ার আগে ইনিংস সর্বোচ্চ ৪৫ রান করেন মার্শ।

পরে ইনিংসের ১৮তম ওভারে জোড়া আঘাতে মুস্তাফিজ ফেরান ম্যাথু ওয়েড (৪) ও অ্যাস্টন অ্যাগারকে (০)। হ্যাটট্রিক না পেলেও অস্ট্রেলিয়ার লোয়ার অর্ডারকে বড় ধাক্কা দেন এ বাঁহাতি পেসার। অ্যাস্টন টার্নারও (৩) সুবিধা করতে পারেননি। শেষ দিকে স্টার্ক অপরাজিত ১৩ রান করেন।

বাংলাদেশের বোলাররা দাপট ধরে রেখেছেন ঠিকই। তাই অস্ট্রেলিয়া রানটা লাগামের বাইরে যায়নি। মুস্তাফিজ ৩টি, শরীফুল ২টি, সাকিব-মেহেদী ১টি করে উইকেট নেন।