বাল্যবিবাহের আয়োজন করেছিল দুই পরিবার; কিন্তু খবর পেয়ে সেই বিয়ে বন্ধ করে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি ছেলে ও মেয়েকে এক মাসের আটকাদেশ দেওয়া হয় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে। যদিও ছেলে ও মেয়ে দুই জনই অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু। শিশুর বিচার মোবাইল কোর্টে করা অবৈধ—উচ্চ আদালতের এমন রায় থাকার পরেও হরহামেশাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হচ্ছে। নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার ঘটনাটিও তেমন। এ ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনলে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের একক ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার শিশুদের জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়।
এদিকে, হাইকোর্টের নির্দেশ প্রাপ্তির আগেই মোবাইল কোর্টের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিল শুনানি করে ঐ দুই শিশুকে জামিন দিয়েছে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। সেই জামিন আদেশ কারাগারে পৌঁছলে বিকাল ৪টায় তাদেরকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
হাইকোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান বলেন, নেত্রকোনার জেলা প্রশাসককে টেলিফোনে হাইকোর্টের আদেশ অবহিত করা হয়। তখন তিনি জানান, ইতিমধ্যেই শিশুদের আপিল শুনানি করে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অর্থাত্ হাইকোর্টের আদেশের আগেই তাদের আপিল শুনানি করে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে জানান সাইফুর রহমান।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ৭(২) ধারায় শর্ত আরোপ করে বলা হয়েছে, অপ্রাপ্ত বয়স্ক বাল্যবিবাহ করলে তাদের শাস্তি দেওয়া যাবে না। বিচার বা শাস্তির ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের শিশু আইন প্রযোজ্য হবে; কিন্তু আইন লঙ্ঘন করে ঐ দুই শিশুকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটকাদেশ দেওয়া হয় বলে আদালতে আবেদন করেন আইনজীবী মো. শিশির মনির। ‘রাষ্ট্র বনাম আইন মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য’ মামলার সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে ঐ আবেদনে বলা হয়, শিশু আইনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ‘এক্তিয়ার নেই’। ফলে গত রবিবার নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুলতানা রাজিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ৭(২) ধারায় দুই শিশুকে যে আটকাদেশ দিয়েছেন, তা ‘এক্তিয়ারবহির্ভূত’।