অস্টেলিয়ার বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় জয় বাংলাদেশের

দর্শক নেই। গ্যালারিতে হই হুল্লোড়, প্রাণের জোয়ার নেই। আফিফ হোসেনের ব্যাট ছুঁয়ে হ্যাজেলউডের বলটা থার্ড ম্যান অঞ্চল দিয়ে চলে গেল সীমানার বাইরে। চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে খোদ অস্ট্রেলিয়ার কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারই করতালিতে অভিবাদন জানালেন বাংলাদেশের দুই তরুণকে। কারণ ৬৭ রানে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের ভালোই চাপে ফেলে দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। স্টার্কদের হতাশায় ডুবিয়ে সেই চাপটা উতরে গেছে বাংলাদেশ আফিফ, নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটে চড়ে।

প্রথম ম্যাচের তুলনায় লড়াই কিছুটা জমালেও অস্ট্রেলিয়ার ভাগ্য বদল হয়নি। গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে পরাজিত করেছে বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে ২-০ তে এগিয়ে গেল টাইগাররা। আগামীকাল সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে তাই সিরিজ জয়ের মিশনেই নামবে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। গতকাল টস জিতে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে ১২১ রান তুলেছিল। জবাবে ১৮.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ১২৩ রান তুলে জয় পায় বাংলাদেশ। অপরাজিত ৩৭ রান করে আফিফ হোসেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান।

রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশও ২১ রানে ২ উইকেট হারিয়েছিল। জিম্বাবুয়ে থেকে বয়ে আনা ফর্মটা যেন ভুলতে বসেছেন সৌম্য। রানের খাতা খোলার আগেই স্টার্কের বলে বোল্ড হয়েছেন তিনি। হ্যাজেলউড বোল্ড করেন নাঈম শেখকে (৯)। সাকিব-মেহেদীর ৩৭ রানের জুটিতে ছিল ইনিংস মেরামতের চেষ্টা। কিন্তু দলীয় ৫৮ রানে লাইন মিস করে বোল্ড হন সাকিব। ১৭ বলে ২৬ রান করেন তিনি।

পরে ৯ রানের মধ্যে মাহমুদউল্লাহ (০), মেহেদীও সাজঘরে ফিরলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে জাম্পার বলে স্ট্যাম্পড হন ২৩ রান করা মেহেদী। ৬৭ রানে ৫ উইকেট পতনের পর হারের ভয় জেঁকে বসেছিল। আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহানের ব্যাটে সেই ভয় তাড়িয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। তারা অবিচ্ছিন্ন ৫৬ রানের জুটি গড়েন। হ্যাজেলউডকে চার মেরে আফিফ দলের জয় নিশ্চিত করেন। আফিফ ৩১ বলে অপরাজিত ৩৭ রান (৫ চার, ১ ছয়), সোহান অপরাজিত ২২ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার স্টার্ক, হ্যাজেলউড, অ্যাগার, জাম্পা, টাই ১টি করে উইকেট পান।

এর আগে প্রথম ম্যাচের তুলনায় ১৩ রানের উন্নতি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার দলগত সংগ্রহে। টপঅর্ডারে ব্যাটসম্যানরা রয়ে-সয়ে খেলার চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের স্পিনারদের আটকে রাখলেও মুস্তাফিজের কাটার-স্লোয়ারে পথ হারিয়েছে সফরকারীরা। ২৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন বাঁহাতি এ পেসার।

ব্যাটিংয়ে নেমে ৩১ রানে ২ উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। অ্যালেক্স ক্যারিকে (১১) মেহেদী হাসান ও জশ ফিলিপেকে (১০) মুস্তাফিজ ফেরত পাঠান। তৃতীয় উইকেটে মিচেল মার্শ-মোসেস হেনরিকসের ৫৭ রানের জুটিতে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে অস্ট্রেলিয়া। হেনরিকসকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন সাকিব।

ইনিংসের ১৭তম ওভারে গলার কাঁটা হয়ে থাকা মার্শকে ফেরান শরীফুল। ১৮তম ওভারে পরপর দুই বলে ম্যাথু ওয়েড, অ্যাস্টন অ্যাগরকে আউট করেন মুস্তাফিজ। মার্শ ৪৫, হেনরিকস ৩০ ও শেষ দিকে স্টার্ক অপরাজিত ১৩ রান করেন। বাংলাদেশের শরীফুল ২টি, সাকিব-মেহেদী ১টি করে উইকেট নেন।

 

টাইগারদের জয়ে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে টানা দ্বিতীয় বিজয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দন বার্তায় ক্রিকেটপ্রেমী প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করায় বাংলাদেশ দলের সব খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশ দলের এই জয়ের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। এর আগে মঙ্গলবার বাংলাদেশ প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২৩ রানে পরাজিত করে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

অস্ট্রেলিয়া : ২০ ওভারে ১২১/৭

 বাংলাদেশ : ১৮.৪ ওভারে ১২৩/৫

ফল : বাংলাদেশ ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা : আফিফ হোসেন (বাংলাদেশ)

তৃতীয় ম্যাচ : আগামীকাল