পিয়াসার সহযোগী মিশুসহ দুই জন আটক
ইত্তেফাক রিপোর্ট
আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলের সাবেক স্ত্রী বিতর্কিত মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার অন্যতম সহযোগী মিশু হাসানসহ দুই জনকে আটক করেছে র্যাব। মিশুর সহযোগীর নাম মো. মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসান। গত মঙ্গলবার রাতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অস্ত্রসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত মিশু রাজধানীর বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় ডিজে পার্টির নামে মাদক বিক্রি ও সরবরাহ করত। এসব পার্টিতে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকাপয়সা হাতিয়ে নিত মিশু চক্র। গতকাল দুপুরে তাকে আটকের বিষয়টি জানিয়ে ব্রিফিং করেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার রাতে বসুন্ধরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৬ রাউন্ড গুলিসহ একটি অস্ত্র, প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার পিস ইয়াবা, সিসা নেওয়ার সরঞ্জাম, একটি গাড়ি, দুটি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসেট, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, পাসপোর্ট এবং ভারতীয় জাল মুদ্রা ৪৯ হাজার ৫০০ রুপি জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত মিশু হাসান ইতিপূর্বে বিভিন্ন মামলায় তিনবার গ্রেফতার হয়েছিল। তার নামে কয়েকটি মামলা রয়েছে।
র্যাব বলছে, গ্রেফতারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। এই চক্রের প্রায় ১০-১২ জন সদস্য রয়েছে। তারা রাজধানীর বিভিন্ন আভিজাত এলাকায় উচ্চবিত্ত পরিবারের সদস্যদরে টার্গেট করে পার্টি বা ডিজে পার্টির আয়োজন করত। ডিজে পার্টিতে মাদকসেবনসহ নানাবিধ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ব্যবস্থা করত তারা। এভাবে অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিত। এ ছাড়া বিদেশেও প্লেজার ট্রিপের আয়োজন করত চক্রটি। একইভাবে তারা উচ্চবিত্ত প্রবাসীদের জন্যও দুবাই, ইউরোপ ও আমেরিকায় এ ধরনের পার্টির আয়োজন করত। তারা সেখানে আগতদের গোপন ছবি ধারণ করে অপব্যবহার করত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।
র্যাব আরো জানায়, গ্রেফতারকৃত শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান বাংলাদেশে নামিদামি ব্র্যান্ডের বিলাশবহুল গাড়ির ব্যবসা করে। সে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও ছলচাতুরির আশ্রয় নিত বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। সে নিজেও দামি ব্র্যান্ডের গাড়ি ব্যবহার করত। তার ব্যক্তিগত দুটি রেঞ্চ রোভার, অ্যাকুয়া, ভক্স ওয়াগন, ফেরারিসহ পাঁচটি গাড়ি রয়েছে। সে অত্যন্ত সুকৌশলে গাড়ির ট্যাক্স জালিয়াতি করে থাকে। গ্রেফতারকৃত জিসানের এলাকায় একটি গরুর ফার্ম রয়েছে, যেখানে অবৈধ অনুমোদিত ব্রামান গরু লালন-পালন করা হয়ে থাকে।