করোনা মহামারিতে চিকিৎসাসেবা প্রদানে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্কয়ার হাসপাতাল। বিশেষ করে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত এবং যারা আক্রান্ত নয়, তাদের পৃথকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের সফল বেসরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই হাসপাতাল।
সম্পূর্ণ আলাদা ভবনে করা হয়েছে করোনা ডেডিকেটেড ইউনিট। সেখানে একসঙ্গে ১২০ জন করোনা রোগীর চিকিত্সাসেবা দিচ্ছে স্কয়ার হাসপাতাল। ১২০ শয্যার মধ্যে আইসিইউ বেড আছে ২৮টি। এইচডিও বেড ১০টি। ১৫ বেডের ওয়ার্ড আছে। পাঁচটি ডে-কেয়ার বেড আছে, যেখানে করোনা রোগীদের এনক্সাপেরিন ইনজেকশন দেওয়া হয়। এখানে ভর্তি না হয়ে শুধু ইনজেকশন দিয়েই রোগীরা চলে যেতে পারে।
করোনা রোগীদের জন্য স্কয়ার হাসপাতালে কেবিন আছে ৬২টি। ডাক্তার-নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবাকর্মী ৫২০ জন। তারা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা রোগীর সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ৫০ জন করোনা রোগী চিকিত্সার জন্য আসে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন দুই শতাধিক করোনা রোগীর চিকিত্সা দেওয়া হয়। বেড খালি সাপেক্ষে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ জন রোগীকে ভর্তি করা সম্ভব হয়। করোনার শুরু থেকে এই হাসপাতালে আরটি-পিসিআর ল্যাবের মাধ্যমে গতকাল পর্যন্ত ১ লাখ ১০ হাজার রোগীর করোনা পরীক্ষা করা হয়।
করোনার প্রথম ঢেউয়ে যখন রোগী বাড়ছিল, তখন দেশের সরকারি হাসপাতালগুলো চিকিত্সাসেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল। তখন খুব কমসংখ্যক বেসরকারি হাসপাতাল করোনা রোগীদের চিকিত্সাসেবায় এগিয়ে আসে। তবে যারা শুরুতে এগিয়ে আসে, তার একটি স্কয়ার হাসপাতাল। দেশে ২০২০ সালের ৮ মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। ঐ বছরের মে মাসে করোনা ডেডিকেটেড ইউনিট চালু করে স্কয়ার হাসপাতাল। এখানে চিকিত্সাসেবা উন্নতমানের। বিদেশের মতো। রোগীরা চিকিত্সাসেবায় সন্তুষ্ট। করোনা রোগীর পরিপূর্ণ চিকিত্সাসেবা এই হাসপাতালে আছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলো প্রতিদিন করোনা রোগীর চিকিত্সাসেবা দিচ্ছে। করোনা মোকাবিলায় তাদের এই অবদান কম নয়।
স্কয়ার হাসপাতাল স্কয়ার গ্রুপের এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যেখান থেকে কোনো লাভ নেওয়া হয় না। একেবারে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে এই হাসপাতাল থেকে যে লাভ হয়, তা হাসপাতালের চিকিত্সাসেবার মানোন্নয়নের জন্য পুনর্বিনিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালে যারা সেবাদানে নিয়োজিত রয়েছেন, তাদের বেতন-ভাতাসহ কল্যাণমূলক কার্যক্রমের ব্যয়ও হাসপাতালের আয়েই নির্বাহ করা হয়। ফলে স্কয়ার হাসপাতাল মূলত স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠিত একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এ কারণেই স্কয়ার হাসপাতাল কোভিড-১৯ মহামারিতেও চিকিত্সা কার্যক্রমে এক দিনের জন্যও পিছিয়ে থাকেনি। বরং সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে সর্বোত্তম চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করছে কোভিড-১৯-এ আক্রান্তসহ সব রোগীর জন্যই। চিকিত্সাসেবা দিতে গিয়ে কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দেশের স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগের প্রধান ও পরিচালক (মেডিক্যাল সার্ভিসেস) ডা. মীর্জা নাজিম উদ্দিন। এছাড়া এই হাসপাতালে চিকিত্সা সেবাদানে যুক্ত তিন শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এখন পর্যন্ত চিকিত্সাসেবা সম্পূর্ণ সচল রেখেছে স্কয়ার হাসপাতাল। এই হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা অত্যাধুনিক।
স্কয়ার হাসপাতালের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. এহসাম ইবনে ইউসুফ সিদ্দিকী বলেন, করোনার শুরু থেকেই আক্রান্ত রোগীর চিকিত্সাসেবা প্রদান করছে স্কয়ার হাসপাতাল। করোনা রোগীদের সুচিকিত্সা দেওয়ার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিত্সাসেবার সার্বিক কার্যক্রম কর্তৃপক্ষ মনিটরিং করে। চিকিত্সাসেবা প্রদান কার্যক্রমে যাতে কোনো ত্রুটি না হয়, সেজন্য সারাক্ষণ মনিটরিং করা হয়। এই হাসপাতালের যেসব ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের এই হাসপাতালে রেখে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সেবা দিয়েছে। এ কারণে তারা কোভিডমুক্ত হওয়ার পর নতুন উদ্যমে উজ্জ্বীবিত হয়ে আবারও চিকিত্সাসেবা প্রদানে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন।
ইত্তেফাক/এএইচপি