কুমিল্লার প্রধান নদী গোমতী বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর, তিতাস হয়ে দাউদকান্দিতে মেঘনায় মিলিত হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পলি বহন করে গোমতীর দু’তীরের চরের জমি উর্বর করে। আর এসব উর্বর জমিতে বছরের পুরো সময়জুড়ে ব্যস্ত থাকেন কৃষকরা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মাটিখেকোরা অবাধে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় নদীচরের ফসলি জমিতে অসংখ্য খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়। বিগত প্রায় তিন দশক ধরে গোমতীতে বর্ষাকালে বন্যা দেখা না দেওয়ায় কৃষকরা কোনোরকম ক্ষতির সম্মুখীন হননি। তবে প্রায় প্রতিটি জায়গা থেকে প্রভাবশালীরা বালু উত্তোলন করে চর এলাকায় স্তূপ করে রাখায়, আবার এস্কেভেটর দিয়ে অবাধে মাটি কাটায়, কোনো কোনো স্থানে ফসলি জমি কেটে বড় বড় জলাশয় তৈরি করে মাছ চাষ করায় বৃষ্টির পানিতে সে স্থানগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে আশপাশের জমির মাটি ভেঙে কোথাও বা জলাবদ্ধতায় চাষাবাদকৃত সবজির গাছগুলো মরে গেছে। জলাবদ্ধতা থাকায় কৃষকরা সেগুলোতে এখন চাষাবাদও করতে পারছেন না। ফলে গোমতীর চরের শত শত একর জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ অবস্থায়, চাষাবাদ স্বাভাবিক রাখতে গোমতীর চর এলাকায় বালু সংরক্ষণ ও মাটি কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মামশাদ কবীর, কান্দিরপাড়, কুমিল্লা ৩৫০০