দেশ বদল করেই স্বর্ণপদক

দেশের হয়ে একবার অলিম্পিক গেমস খেলতে পারলেই তার খেলোয়াড়ি জীবনের অনেকটাই স্বার্থক। আর পদক জিতলে তো কথাই নেই। টোকিও অলিম্পিকে ট্রিপল জাম্পে খেলা পর্তুগিজ তারকা পেদ্র পিচারদো স্বর্ণপদক জয় করেছেন। এই ক্রীড়াবিদ পরপর দুই অলিম্পিকে দুই দেশের হয়ে খেললেন। ২০১৬ সালে ব্রাজিলে রিও অলিম্পিকে খেলেছিলেন কিউবার হয়ে। আর চার বছর পর খেললেন টোকিও অলিম্পিকে পর্তুগালের হয়ে।

এক কন্যাসন্তানের জনক, ২৮ বছর বয়সি পেদ্র পিচারদো জন্মেছিলেন কিউবায়। রিও অলিম্পিকে খেলার আগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন ২০১৩ এবং ২০১৫ সালে। এই দুটি চ্যাম্পিয়নশিপে খেললেও পিচারদোর চোখ খুলে যায় রিও অলিম্পিকে গিয়ে। অলিম্পিক গেমস কত বড় আসর। হাজার ক্রীড়াবিদদের আনাগোনা। পদক জয়ের উচ্ছ্বাস। নানা ঘটনা দেখে মন ভার করে অলিম্পিক ভিলেজে ফিরেছিলেন। অন্যদের মতো পদক জয়ীদের সঙ্গে পোডিয়ামে দাঁড়ানোর স্বপ্নটা সেই থেকেই শুরু। বদলে ফেললেন নিজের জীবনের পুরোনো সব পরিকল্পনা। বদলে দিলেন চিন্তাধারা। নতুন স্বপ্নের বীজ বুনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দেশ বদলে ফেলবেন। কিউবায় থাকবেন না। পর্তুগাল চলে যাবেন। পরিবারের সঙ্গে থাকবেন। বাবার সঙ্গে থাকবেন। বাবা জর্জ পিচারদোর কাছে প্রশিক্ষণ নেবেন। কারণ এই বাবা তার ছেলে পেদ্রকে ট্রিপল জাম্পে খেলার বীজ মাথায় ঢুকিয়েছিলেন। ২০১৬ রিও অলিম্পিক হতে ফিরে ২০১৭ সালেই পর্তুগালে পাড়িজমান পেদ্র পিচারদো। শুরু হয় জীবনের নতুন সংগ্রাম। টার্গেট করেন কীভাবে টোকিও অলিম্পিকে স্বর্ণ জয় করে জীবনটাকে রাঙিয়ে দেবেন। কোনো দিকে না তাকিয়ে ধ্যানমগ্ন থাকা পেদ্র পিচারদোর তিন বছরের চেষ্টা সফল হয় এবার।

জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় কেটেছে কিউবাতে। এটি ২০১৪ সালে। ২০১৩ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন খেলে এসে কোনো একটি ঘটনায় কিউবায় কোচ রিকার্ডো পনসের কাছে অনুশীলন করবেন না বলে সরে আসেন। এই ঘটনায় পেদ্র পিচারদোকে জাতীয় দল হতে এক বছরে জন্য বহিষ্কার করা হয়। এক বছর শাস্তি ভোগ করে ২০১৫ সালের মার্চে খেলায় ফেরেন এই জাম্পার। পেদ্র পিচারদো বলেছেন, ‘এক বছরের শাস্তিটা ভালো ছিল না। তবে এটার একটা পজিটিভ দিক আছে। কারণ এই সময়টায় আমি নিজেকে তৈরি করেছি এবং আমার মনটা পুরো প্রফুল্ল ছিল। সেই সঙ্গে আমি আমাকে পুনরায় উজ্জীবিত করেছিলাম খেলার জন্য। বহিষ্কৃত থাকাকালীন সময়টা আমার কাজে লেগেছে।