চট্টগ্রামে হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি বেড়েছে

চট্টগ্রামে হাসপাতালে করোনা রোগী ভর্তি বেড়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে চট্টগ্রামে সংক্রমণ ও মৃত্যু ঊর্ধ্বমুখী। বেসরকারি হাসপাতালে আগে থেকে করোনা রোগী ভর্তির জন্য কেবিন খালি পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা ওয়ার্ডে নির্ধারিত বেডের অতিরিক্ত করোনা রোগী ভর্তি আছে। রোগী সুস্থ হয়ে বেড না ছাড়লে কিংবা কারো মৃত্যু না হলে সরকারি-বেসরকারি কোথাও বেড মিলছে না। চট্টগ্রামে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ১ হাজার ৯৮০ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে।

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মানুষের চলাফেরা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষের মুখে মাস্ক নেই। মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ থাকলেও অন্যান্য দোকানপাট খোলা। নগরীর মধ্যে কয়েকটি সড়কে গাদাগাদি করে হিউম্যান হলার, ম্যাক্সিমা গাড়িতে যাত্রী পরিবহন চলছে। তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নগরীর বহদ্দারহাট থেকে কর্ণফুলী সেতু ও কালুরঘাট পর্যন্ত গণপরিবহনের এসব গাড়ি যাত্রী পরিবহন করছে। বহদ্দারহাটে দোকানপাট সব খোলা। জানতে চাইলে চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অনেকটা ইঁদুর বিড়াল খেলা চলছে। পুলিশ গেলে দোকান বন্ধ করে দেয়। পুলিশ চলে গেলে আবার খুলে বসে।

চট্টগ্রামে শুরু থেকে সরকারিভাবে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালকে করোনা রোগীর চিকিত্সার জন্য নির্ধারণ করা হয়। শুরুতে এটি ১০০ শয্যার হলেও পরবর্তী সময়ে ১৫০ শয্যার করা হয়। কিন্তু তারপরও রোগী সামাল দেওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে ১৯৩ জন করোনা রোগী ভর্তি আছে। এর মধ্যে আইসিইউতে রয়েছে ১৭ জন। জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২৪ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে। তার মধ্যে আইসিইউতে ছয় জন ও সাধারণ বেডে ১৮ জন।

চমেক হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে ৩০০ বেডের ব্যবস্থা থাকলেও গত কিছুদিন যাবত্ এর অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। গতকাল ৩২৬ জন করোনা রোগী ভর্তি ছিল। বেড খালি না থাকায় ওয়ার্ডের বারান্দায় ও ফ্লোরে রেখে করোনা রোগীদের চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। ১০টি আইসিইউ বেডের কোনোটিই খালি নেই। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম হুমায়ূন কবির ইত্তেফাককে বলেন, করোনা রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিত্সাসেবা পরিচালনায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। করোনা চিকিত্সায় আমাদের চিকিত্সক ও জনবলের সংকট রয়েছে। হাসপাতালের শিক্ষানবিশ চিকিত্সকদের করোনা চিকিত্সায় যুক্ত করা হচ্ছে।’

ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ৫০ বেডের ব্যবস্থা রয়েছে। এই হাসপাতালে প্রতিদিন ৪৭-৪৮ জন রোগী ভর্তি থাকেন বলে উপ-পরিচালক ডা. বখতেয়ার আলম জানিয়েছেন। এই হাসপাতালে পাঁচটি আইসিইউ বেড রয়েছে। ভেন্টিলেটর না থাকায় হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দিয়ে আইসিইউ বেড চালানো হচ্ছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য দেখা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন ল্যাবে ৩ হাজার ৯৭টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ১১৭ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। তার মধ্যে নগরীতে ৬৪১ জন ও উপজেলায় ৪৭৬ জন। মারা গেছেন ৯ জন।

চট্টগ্রামে করোনার শুরু থেকে বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে পার্কভিউ হাসপাতাল করোনা চিকিত্সায় এগিয়ে রয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় কয়েক দফায় বেড বৃদ্ধি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বেসরকারি এই হাসপাতালে ৮৫ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে। আইসিইউ বেড ১২টি থেকে বাড়িয়ে ২৪টি করা হয়েছে। এছাড়া আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল, ম্যাক্স হাসপাতাল, ন্যাশনাল হাসপাতাল, সিএসসিআর, মেডিক্যাল সেন্টার ও মেট্রোপলিটন হাসপাতালে করোনা রোগীর চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।