বিধান চন্দ্র ঘোষ, দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা
ভরা মৌসুমেও খুলনার দাকোপে বিভিন্ন নদীতে ইলিশের দেখা মিলছে না। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় জেলেরা বিপাকে পড়েছেন। উপজেলা মত্স্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পৃথক তিনটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এই উপজেলা। এর চার পাশে নদী দিয়ে পরিবেষ্টিত। মত্স্য আহরণের অভয়ারণ্য ছিল উপজেলার উল্লেখযোগ্য কাজীবাছা, মাঙ্গা, পশুর, ঝপঝপিয়া, ঢাকী, ভদ্রা ও শিপসা নদী। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকার প্রায় সহস্রাধিক জেলে পরিবার এর ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দিনরাত নদীতে জাল ফেলেও ইলিশ না পেয়ে তারা নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। মাঝেমধ্যে দুই-একজন জেলের জালে দুই-একটি মাছ ধরা পড়লেও বাজারে তার দাম আকাশছোঁয়া। যা সাধারণ মানুষ কিনে খেতে পারছেন না। এদিকে দীর্ঘদিন ইলিশের দেখা না পেয়ে ইতিমধ্যে এ পেশা ছেড়ে কেউ কেউ আবার অন্য পেশা শুরু করে সংসার চালাছেন। সরকার সহজ শর্তে ঋণ দিলে তাদের কিছুটা মাথা গোঁজার ঠাঁই হতো বলেও এসব জেলেরা জানান।
পশুর নদীর জেলে শিবপদ মণ্ডল জানান, তার একমাত্র পেশা মাছ ধরা এবং তা বিক্রি করে সংসার চালানো। চলতি মৌসুমে মহাজনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে জাল কিনে ও নৌকা ভাড়া করে নদীতে নেমেছেন। কিন্তু কয়েক দিন পর গতকাল শুক্রবার সকালে দুটি ইলিশ মাছ পেয়েছেন। একটি মাছ ছোট হলেও অপরটির ওজন এক কেজির ওপরে। তবে এই প্রথম তিনি মাছ বিক্রি করবেন। তার মতো একাধিক জেলে একই অভিমত ব্যক্ত করেন। মাছ বাজারে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় পানখালী এলাকার ফাল্গুনী হালদারের। তিনি বলেন, তার দুই মেয়ে ইলিশ মাছ খেতে চেয়েছেন। স্থানীয় নদীর ইলিশের স্বাদ বেশি, তাই মাছ কিনতে গিয়েছেন। তবে তার মতো একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরের চড়া মূল্যের ইলিশ মাছ কিনে খাওয়া সম্ভব নয় বলে জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মত্স্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান বলেন, বরিশালের দিকে ভালো ইলিশ মাছ ধরা পড়ছে। স্থানীয় নদীতে এখন দুই-একটা মাছ ধরা পড়ছে। হয়তো আর কিছুদিন গেলে বেশি মাছ পাওয়া যেতে পারে।