ফারুক আহমেদ, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের সামনে ঝুলছে ‘বেড খালি নেই’ ব্যানার। হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী। খালি নেই সাধারণ এবং আইসিইউ বেড। তাই হাসপাতালের সামনে এমন ব্যানার টানিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকালপারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, করোনা ইউনিটে ৪০০ বেডের বিপরীতে হাসপাতালের আইসিইউতে ২৩ জনসহ মোট ৫২৫ জন রোগী করোনা ও উপসর্গ নিয়ে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। মেডিক্যাল কলেজের করোনা ইউনিটে বেড ২১০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০০। আইসিইউর বেড সংখ্যা ১০ থেকে ২২টিতে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও রোগীর চাপ সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরো বলেন, বেড খালি না থাকায় হাসপাতালের মেঝেতেই রোগীর চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এখন মেঝেতেও রোগী রাখার মতো জায়গা নেই। ফলে ন্যূনতম চিকিত্সা ও অক্সিজেন সেবা দিতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলা ছাড়াও কিশোরগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর থেকেও রোগী ভর্তির জন্য আসেছেন। এতে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর চাপ বেড়ে গেছে। রোগীদের যথাযথ চিকিত্সা নিশ্চিত করাও দুরূহ হয়ে পড়ছে। বেড খালি না থাকায় বাধ্য হয়েই তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যাদের অবস্থা খারাপ তাদের ভর্তি করা হচ্ছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিত্সা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) জাকিউল ইসলাম বলেন, প্রতিনিয়তিই বাড়ছে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা। ২৩০ বেড নিয়ে করোনা ইউনিট চালু হলেও দেড় মাস ধরে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বেডের সংখ্যা কয়েক দফা বাড়িয়ে ৪০০ করা হয়েছে। সমস্যা সমাধানে বেড সংখ্যা আরো বাড়ানোর কাজ চলছে।
এদিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে দুই নবজাতক চিকিত্সাধীন রয়েছে। করোনার পাশাপাশি তারা নিউমোনিয়া রোগেও আক্রান্ত। মমেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকালপারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত এক নবজাতকের বয়স ২৩ দিন। অপর নবজাতকের বয়স ১৩ দিন। তিনি বলেন, ‘গত জুলাই মাস থেকে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ১০ নবজাতকের চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে। আট নবজাতক সুস্থ হয়েছে। বর্তমানে দুই জন চিকিত্সাধীন রয়েছে।’
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের করোনা রোগীদের জরুরি চিকিত্সাসেবার সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩ হাজার ৫৭৯ সিলিন্ডার অক্সিজেন প্রদান করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি। তিনি আরো জানান, সরবরাহের জন্য অন্যান্য দিনের ন্যায় অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিলের কাজ চলমান রয়েছে।
শুক্রবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের করোনা ইউনিটের ফোকালপারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি রোগীর চাপ ব্যাপক বেড়েছে। দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট। মেঝেতেও ঠাঁই হচ্ছে না রোগীদের। হাসপাতালের আইসিইউতে ২৩ জনসহ মোট ৫২৫ জন রোগী করোনা ও উপসর্গ নিয়ে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। ফাঁকা নেই আইসিইউ।
এদিকে ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব ও হাসপাতালে অ্যান্টিজেন টেস্টে মোট ১ হাজার ৭১১টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ৪০২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৩.৫ শতাংশ।