‘এবার গল্প নির্ভর কাজ বেশি হয়েছে’

 

অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ ছোটপর্দার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রেও সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমানে নতুন একটি ছবিসহ কয়েকটি ধারাবাহিকের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। নিজের চলমান ব্যস্ততা, ঈদের নাটকের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির সমসাময়িক নানা প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

বর্তমানে কোন কাজগুলো নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

এখন তো করোনার কারণে শুটিং বন্ধ রয়েছে। তবে ‘বাকের খনি’, ‘বাজিমাত’ ও ‘ছোট ভাই বড় ভাই’ ধারাবাহিকগুলো প্রচার হচ্ছে। শিগগিরই নাটকগুলোর পরবর্তী পর্বের শুটিং শুরু করবো। পাশাপাশি ‘কল্পনা’সহ বেশ কয়েকটি ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ঈদে আপনার বেশ কয়েকটি নাটক প্রচার হয়েছে। দর্শক প্রতিক্রিয়া কেমন পেলেন?

এবার ঈদে আমার খুব কম নাটক প্রচার হয়েছে। তার মধ্যে ‘মোগল ফ্যামিলি’ ও ‘পরগাছা’ নাটক দুটি থেকে বেশি সাড়া পেয়েছি। সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল চঞ্চল ভাইয়ের প্রশংসা। চঞ্চল ভাইয়ের মতো গুণী অভিনেতার কাছ থেকে এমন প্রশংসা আমার জন্য পুরস্কারের চেয়ে বেশিকিছু।

এবারের ঈদে বেশকিছু নাটক প্রশংসিত হয়েছে। নাটকগুলোর কোন পরিবর্তন আপনার চোখে বিশেষ মনে হয়েছে?

এবারে ঈদের নাটকগুলোতে গল্পের বৈচিত্র্যতা লক্ষ্যণীয় ছিল। এবার গল্প নির্ভর কাজ বেশি হয়েছে। এছাড়া আমাদের শুটিংয়ে বেশি বাজেট ব্যয় করা হলেও পোস্ট-প্রোডাকশনে টাকা ব্যয় কম করা হতো। এতে কাজের মানে প্রভাব পড়তো। এবার কিন্তু সবাই পোস্ট-প্রোডাকশনের দিকে নজর দিয়েছেন। গল্প ও নির্মাণ দুটিই ভালো হয়েছে।

কিন্তু প্রশংসার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি নাটক নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। এ ধরনের কাজের জন্য কাকে দায়ী করবেন?

আমি এই বিষয়টি বিচার করার কেউ না। তবে একজন শিল্পী হিসেবে মন্তব্য করতে পারি, এই দায় আসলে একক কারো না, সবার। আমরা বেশি কাজের পেছনে ছুটতে গিয়ে ঠিকভাবে দেখে-শুনে কাজ করছি না। সেটা সমাজে কী প্রভাব ফেলছে তা ভাবার সময় কারো নেই। নাট্যকার থেকে শুরু করে নির্মাতা, শিল্পী সবাইকেই আরো একটু পড়াশোনা করে এবং যত্নশীল হয়ে কাজ করতে হবে।

ভিউ বাণিজ্যকে কীভাবে দেখছেন?

ভিউ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। দর্শক দেখছে বলেই কিন্তু ভিউ হচ্ছে। তবে খালি হাতে ভিউয়ের লক্ষ্যে পৌঁছালে হবে না। এতে নৈতিকতা, সামাজিক অবক্ষয়সহ নানা নেতিবাচক প্রভাব সমাজে পড়ে। তাই আমার মনে হয়, দিনশেষে ভিউয়ের সঙ্গে কী দিচ্ছি, কী রেখে যাচ্ছি সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বেশিরভাগ নাটকে বিনোদিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে নাটক দূরে সরে যাচ্ছে বলে মনে করছেন না?

নাটক মানেই বিনোদন থাকতে হবে। তবে এর পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা অবশ্যই দরকার আছে। শুধু মানুষকে হাসালেই হবে না, একটি মেসেজও আপনাকে দিতে হবে। শেখার বিষয়টি থাকতে হবে। আর আমাদের এখানে যে ভালো নাটক হচ্ছে না, তা না। কিছু কাজে হয়তো ভাঁড়ামো করা হচ্ছে। তবে সেগুলো সংখ্যায় কম।

ওটিটি মাধ্যমটি কতটা ইতিবাচক? শিল্পী-নির্মাতারা এখানে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে বলে মনে করছেন?

এই মাধ্যটি সবে যাত্রা শুরু করেছে। অবস্থান তৈরি করতে, বুঝতে বা পরিচিতি পেতে আরো সময় দিতে হবে। সঠিক ব্যবহার করতে পারলে মাধ্যমটি অবশ্যই ইন্ডাস্ট্রির জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে। স্বাধীনতা নিয়ে বলবো, স্বাধীনভাবে কাজ করতে হলে স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে। যদি স্বাধীনতা অর্জন করে থাকি থাকি, তবে কাজ করতে পারবো। যদি পরাধীন হই, তবে সবাই মিলে চেষ্টা করলে অবশ্যই ভালো কাজ করতে পারবো।

নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেও কাজ করছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন আপনার নতুন ছবি কেন পাচ্ছে না দর্শকরা?

আমার শুটিং শুরু হওয়া ‘একাত্তরের সেইসব দিনগুলি’ ছবির কাজ চলছে। যদিও করোনার কারণে আপাতত শুটিং বন্ধ রয়েছে। তবে পরিস্থিতি ভালো হলে নিশ্চয় নতুন ছবি নিয়ে হাজির হবো।

দিনদিন চলচ্চিত্রের অবস্থা আরো নাজুক হয়ে পড়ছে। আদৌ হলে ফিরতে পারবে চলচ্চিত্র?

আমাদের ইন্ডাস্ট্রি অনেকদিন ধরেই সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। তবে এরই ভেতরে কিন্তু বেশ কয়েকটি ভালো চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এমনকি আমাদের চলচ্চিত্র কান চলচ্চিত্র উত্সবেও গেছে। এটা আশার দিক। করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে নিশ্চয় চলচ্চিত্র আবার ঘুরে দাঁড়াবে। চলচ্চিত্র হলে ফিরুক, এটাই আমার প্রত্যাশা।