সাকিবুল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আবির্ভাবের সময়টাতে এভাবেই ধারাভাষ্যকাররা উচ্চারণ করতেন। সময়ের সঙ্গে সাকিব আল হাসান নামটাই থিতু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তপ্ত জমিনে ক্রমেই নিজেকে মেলে ধরেছেন তিনি। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের দ্যুতিতে বিশ্ব সেরার খেতাব পেয়েছেন।
২০০৬ সালের ৬ আগস্ট হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিল সাকিবের। তারপর কেটে গেছে ১৫ বছর। গতকাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পূর্ণ করলেন বাঁহাতি এ অলরাউন্ডার। ঐ বছরই একই দলের বিরুদ্ধে খুলনায় টি-২০ অভিষেক ও ২০০৭ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরু হয় সাকিবের।
বিকেএসপি থেকে ক্রিকেটের সঙ্গে তার মিতালি শুরু। বহু অর্জনে সমৃদ্ধ তার লম্বা ক্যারিয়ার। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের রান, রেকর্ডের বরপুত্র সাকিব। ব্যাটে-বলে তার ঈর্ষণীয় পারফরম্যান্স সতীর্থদের উন্নতিতেও সাহায্য করেছে। ২০০৯ সালেই ওয়ানডের বিশ্ব সেরা অলরাউন্ডার হয়েছিলেন। একটা সময় তিন ফরম্যাটেই অলরাউন্ডারদের শীর্ষে জায়গা পেয়েছিলেন। তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। যদিও নেতৃত্বে স্থায়ী হতে পারেননি দুই দফাতেও।
ক্যারিয়ার জুড়ে বিতর্কও সাকিবের পায়ে পায়ে হেঁটেছে। সংবাদমাধ্যমে বেফাঁস মন্তব্য করেছেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে নিষিদ্ধ হয়েছেন, অনেক বার শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৯ সালে জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করায় আইসিসিও তাকে নিষিদ্ধ করেছিল। বিতর্কিত সব কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলেও ২২ গজে সাকিব সবসময় অপ্রতিরোধ্য পারফরমার। সব ফরম্যাটেই বাংলাদেশ দলের অন্যতম ভরসার নাম, একই সঙ্গে প্রতিপক্ষ শিবিরের আতঙ্ক তিনি।
২০১৯ বিশ্বকাপে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স করেছিলেন সাকিব। দুই সেঞ্চুরিতে ৬০৬ রান ও বল হাতে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন এ বাঁহাতি অলরাউন্ডার। যদিও বাংলাদেশ দল সেমিফাইনালে উঠতে না পারায় আক্ষেপ নিয়েই ফিরতে হয়েছিল তাকে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিবের অবস্থান, সংযুক্তি, প্রভাব নতুন করে বলার কিছু নেই। ক্যারিয়ার জুড়েই বাংলাদেশ দলের অধিনায়কদের আস্থা ছিলেন তিনি। গতকালকের আগে দেশের হয়ে ৫৮ টেস্ট, ২১৫ ওয়ানডে ও ৮১টি টি-২০ খেলেছেন সাকিব।
টেস্টে ৫ সেঞ্চুরি, ২৫ হাফ সেঞ্চুরিতে ৩ হাজার ৯৩৩ রান করেছেন, উইকেট ২১৫টি। ওয়ানডেতে ৯ সেঞ্চুরি, ৪৯ সেঞ্চুরিতে ৬ হাজার ৬০০ রান করেছেন, উইকেট নিয়েছেন ২৭৭টি। টি-২০ তে ৯টি হাফ সেঞ্চুরি, ১ হাজার ৬৬৬ রান এবং বোলিংয়ে ৯৭ উইকেট নিয়েছেন এ বাঁহাতি অলরাউন্ডার।
অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে অনেক কীর্তি গড়েছেন সাকিব। ইমরান খান, ইয়ান বোথামদের কাতারে বহু রেকর্ডে নিজের নাম তুলেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার কি না সাকিব, সেই তর্ক-আলোচনাই এখন ক্রিকেট বিশ্বে হরহামেশা হয়ে থাকে। প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মিশনে থাকা এ অলরাউন্ডার দেশের হয়েও একগাদা রেকর্ড করেছেন। ব্যাটিংয়ে ওয়ানডে, টি-২০ তে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি, টেস্টে আছেন তিন নম্বরে। বল হাতে তিন ফরম্যাটেই দেশের সেরা সাকিব।
ক্রিকেটের খুদে সংস্করণে উইকেটের সেঞ্চুরি পূরণ করার দুয়ারে এখন ৩৪ বছর বয়সি এ অলরাউন্ডার। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এ হোম সিরিজেই যে অর্জনের পালক যুক্ত হতে পারে তার ক্যারিয়ারে।