জেলবন্দি এক বাংলাদেশি মহিলাকে অবিলম্বে তার নিজ খরচে দেশে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আবেদন সত্ত্বেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের টালবাহানায় দীর্ঘদিন দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে বন্দি রয়েছেন নাভি আখতার নামে ঐ মহিলা। বৃহস্পতিবার ভারত সরকারের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেলের কাছে এ নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক। তার মন্তব্য, নিয়মের ফাঁসে বিদেশি নাগরিক বিনা কারণে জেলে থাকতে পারেন না। এই নির্দেশ হাতে পাওয়া মাত্রই দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের সুপারকে ঐ মহিলার মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। সুপার তাকে নিয়ে কলকাতার দমদম বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষর হাতে তুলে দেবেন, যাতে তিনি দ্রুত নিরাপত্তা সংক্রান্ত পদ্ধতি মেনে বিমানে দেশে ফিরতে পারেন। তবে মহিলাকে বিমান যাত্রার খরচ বহন করতে হবে।
বাংলাদেশি নাগরিক নাভি আখতারের আইনজীবী সৌমজিত্ দাস মহাপাত্র জানান, ব্যক্তিগত কারণে ঐ মহিলা পশ্চিমবঙ্গে আসেন এবং গত ১৩ এপ্রিল তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়। করোনা পরিস্থিতির কারণে ভিসা এক্সটেনশন করতে পারেননি। পরে তিনি উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরতে গিয়ে বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন। বিএসএফ তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিলে বসিরহাট মহকুমা আদালত ৬৬ দিনের জেলবন্দির নির্দেশ দেয়। গত ১৯ জুন তার জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল। এরপর তিনি বৈধভাবে দেশে ফেরার জন্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। জানান, ভিসা নবায়ন করাতে না পারায় তিনি বেআইনিভাবে সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এর প্রাপ্ত শাস্তি তিনি পেয়েছেন। এবার যাতে নিয়মমতো দেশে ফিরতে পারেন সেজন্য ভারত সরকার ব্যবস্থা করে দিক। বিমানযাত্রার খরচ তিনি বহন করবেন। সমাধান না হওয়ায় নাভি আখতার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। গত ২২ জুলাই বিচারপতি দেবাংশু বসাক দ্রুত কেন্দ্রকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
এদিনের শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল দাবি করেন, তাকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে একাধিক পদ্ধতিগত সমস্যা রয়েছে। অনেক প্রক্রিয়া মানতে হবে তাই সময় দরকার। কিন্তু বিচারপতি সেই দাবি নাকচ করে জানিয়ে দেন, ভারত সরকারের আইনের জটিলতায় বিদেশি নাগরিক জেলে আটকে থাকতে পারেন না। এটা সরকারের গাফিলতি। এরপরেই তিনি জেল সুপারকে ঐ বাংলাদেশি মহিলাকে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।??