তুরস্কে জিম্মি করে বাংলাদেশে টাকা আদায় চক্রের সদস্য গ্রেফতার

তুরস্কে জিম্মি করে বাংলাদেশে পরিবারের নিকট থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগে মানব পাচারকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১র একটি দল। শনিবার (৭ আগস্ট) ভোরে চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলা এলাকা থেকে ওমান প্রবাসী মো. লিটনকে গ্রেফতার করা হয়। 

আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ কুমিল্লা ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, মোটা অংকের বেতন ও উন্নত জীবনযাপনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তুরস্কে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মো. জনি নামের এক যুবককে পাচারে আর্থিক লেনদেনে জড়িত লিটনকে গ্রেফতার করা হয়। লিটন চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ মতলব দক্ষিণ উপজেলার বেলুতি গ্রামের আজমত উল্লাহর ছেলে। র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে লিটন মানব পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। 

র‌্যাব জানায়, ঢাকার আশুলিয়া থানা এলাকার গোহাইল বাড়ি গ্রামের ফারুক খানের স্ত্রী পারুল বেগম গত বুধবার (৪ আগস্ট) কুমিল্লা র‌্যাব কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার ভাই মো. জনি (২৮) গত দেড় বছর যাবত ওমানে কর্মরত। সেখানে থাকা অবস্থায় ওমান প্রবাসী (বাংলাদেশি) মো. তাহের মিয়া ওরফে তুষার তার ভাইকে (জনি) উন্নত জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে তুরস্কে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। এতে জনি সম্মত হয় এবং সম্প্রতি ওমান থেকে তুষারের মাধ্যমে তুরস্কের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। কিছুদিন পরে অজ্ঞাত ব্যক্তি জনিকে আটকে রেখে মারধর করে তার (পারুল বেগম) কাছে ভিডিও কল দেয় এবং জনির মুক্তির জন্য ৭ লাখ টাকা দাবি করে, না দিলে জনিকে হত্যা করবে বলে হুমকি দেয়।

অজ্ঞাত ব্যক্তিরা টাকা প্রেরণের জন্য পারুল বেগমের নিকট একটি ব্যাংক একাউন্ট ও একটি বিকাশ নম্বর দেয়। এতে নিরুপায় হয়ে তাদের কথা মতো বিকাশে ২৫ হাজার ও ব্যাংক একাউন্টে ৬০ হাজার টাকা ট্রান্সফার করা হয়। তারা আরো টাকার জন্য পারুল বেগমকে চাপ সৃষ্টি করে এবং অবশিষ্ট টাকার জন্য তার ভাই জনিকে জিম্মি করে পীঠমোড়া করে বেধে শারীরিক নির্যাতন করার দৃশ্য দেখায়। অভিযোগে ওই ব্যাংক একাউন্টখানা চাঁদপুরের বলে উল্লেখ করা হয়। 

এদিকে অভিযোগ পেয়ে র‌্যাবের টিম অভিযানে মাঠে নামে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্যাংক একাউন্টের গ্রাহক মো. লিটনকে শনিবার (৭ আগস্ট) চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার লিটন র‌্যাবকে আন্তর্জাতিকভাবে মানব পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য জানায়।  লিটনের দেওয়া তথ্যমতে সে ওমান প্রবাসী, গত ২৬ জুন বাংলাদেশে এসেছে এবং আগামী ২৫ আগস্ট সে ওমানে চলে যাবে। সেখানে সে মোবাইল ব্যাংকিং এবং বাংলাদেশে তার ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে মানব পাচারকারী চক্রের টাকা আদান-প্রদানে জড়িত। 

লিটন আরো জানিয়েছে, ভিকটিম (জনি) ওমানে থাকা অবস্থায় তাহের মিয়া ওরফে তুষার নামের এক দালালের পরিচয় হয়, তুষার ভিকটিমকে প্রথমে ইরানে পাঠায়। ইরানে সুমন নামে অন্য একজন দালাল ভিকটিম জনিকে রিসিভ করে তুরস্কে প্রেরণ করলে তুরস্কের দালাল সাইফুল ও রানা তাকে (জনি) রিসিভ করে। এভাবে জনিকে ওমান থেকে তুরস্কে পাঠানো হয়, সেখানে সে চক্রের নিকট জিম্মি অবস্থায় রয়েছে। 

মেজর মোহাম্মদ সাকিব আরও বলেন, সংঘবদ্ধ মানব পাচারকারী চক্রটি মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসী বাংলাদেশীদের অধিক বেতন ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে প্রেরণের নামে তাদের জিম্মি করে মারধরপূর্বক পরিবারের নিকট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। মানব পাচারকারী ও তাদের সহযোগীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।


ইত্তেফাক/আরকে