ইত্তেফাক ডেস্ক
সারা দেশে গতকাল শনিবার থেকে করোনার গণটিকা দান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। টিকাকেন্দ্রগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কেন্দ্রগুলোতে নির্দিষ্টসংখ্যক টিকা দেওয়ার আয়োজন করা হলেও লাইনে হাজার হাজার নারী-পুরুষকে দাঁড়াতে দেখা যায়। ফলে তাদের বাড়ি ফেরত পাঠাতে হয়েছে। আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :
রংপুর :বিভিন্ন টিকাকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। বিভাগের একটি সিটি করপোরেশন, ৫৮ উপজেলা এবং ৩১টি পৌরসভার ১ হাজার ৮৬৯টি কেন্দ্রে একযোগে বেলা ৩টা পর্যন্ত চলে টিকাদান। সকালে রংপুর সিটি করপোরেশনের জুম্মাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গণটিকা দান কার্যক্রম আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা।
খাগড়াছড়ি :পার্বত্য জেলার ৩৮টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভায় একযোগে টিকা কার্যক্রম শুরু করা হয়। প্রতিটি বুথে সর্বোচ্চ ২০০ মানুষকে টিকা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
নেত্রকোনা :নেত্রকোনা জেলার ১০ উপজেলা ও দুটি পৌরসভায় শনিবার ৫৩ হাজার ৬০০ জনকে কভিড-১৯ প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার নেত্রকোনার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. অভিজিত্ লোহ বলেন, জেলার ৮৬টি ইউনিয়নের ৮৬টি কেন্দ্রে এবং দুটি পৌরসভার ১২টি কেন্দ্রে এই টিকা প্রদান করা হয়।
ময়মনসিংহ :সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিয়েছেন সাধারণ মানুষ। জেলার ১৪৬টি ইউনিয়ন, একটি সিটি করপোরেশন ও দুটি পৌরসভার ৫৪৩টি বুথে সকাল থেকে একযোগে এই টিকা কার্যক্রম চলে। এ ছাড়া জেলার স্থায়ী ১৬টি সেন্টারের ৪৬টি বুথেও টিকা কার্যক্রম চলেছে।
ফেনী :শনিবার সকালে ফেনী পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডে এই টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। এদিকে দাগনভূঞায় রাজাপুরের বাতসীরি উচ্চ বিদ্যালয়ের টিকাদান কেন্দ্রে ছাত্রলীগের স্বেচ্ছাসেবক দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবু নাসের চৌধুরী আসিফ। দাগনভূঞা থানার ওসি ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছেন, গেঞ্জি ভাগাভাগির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
সুনামগঞ্জ :সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন বলেন, সুনামগঞ্জে গণটিকা প্রদানের জন্য ৯৭টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। পুরো সুনামগঞ্জে ৫৪ হাজার ৬০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে।
জামালপুর :পৌরসভার পাথালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস জানান, জেলার ৭৯টি কেন্দ্রে ২১৩টি বুথে টিকা দেওয়া হবে। প্রথম দিনে ৪২ হাজার ৬০০ টিকাদানের টার্গেট করা হয়েছে।
মেহেরপুর :মেহেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. নাসিরুদ্দিন বলেন, জেলার ১৮টি ইউনিয়নে একটি করে, মেহেরপুর পৌরসভায় ৯টি এবং গাংনী পৗরসভায় একটিসহ ২৮টি কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম শেষ হয়েছে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ নিজ নিজ কেন্দ্রে টিকা নিয়েছেন।
লালমনিরহাট :সকালে জেলার পাঁচ উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়ন পরিষদ ও দুটি পৌরসভায় সকাল ৯টায় টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলায় ১৩৫টি বুথে ২৯ হাজার ৪০০ জনকে এ টিকা দেওয়া হবে বলে সিভিল সার্জন জানান।
ভোলা (দক্ষিণ) :সকাল থেকেই প্রতিটি টিকাকেন্দ্রে টিকা নিতে আগ্রহীদের ভিড় দেখা গেছে। ভোলায় ৬৮টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভার ৯৫টি কেন্দ্রে ৪৬ হাজার ডোজ গণটিকা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
পাবনা :পাবনা জেলা ইপিআই সুপারিনটেনডেন্ট মো. রবিউল আলম জানান, জেলার ৮৪টি কেন্দ্রের ২৩০টি বুথে কোভিড-১৯-এর টিকা দেওয়া হচ্ছে। পাবনা পৌরসভার মেয়র শরীফ উদ্দিন প্রধান বলেন, পাবনা পৌরসভাধীন পাঁচটি টিকাকেন্দ্রে আমাদের কাউন্সিলর কর্মকর্তা গণটিকা প্রদানে সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
নাটোর :পঁচিশোর্ধ্ব সব বয়সের নারী ও পুরুষ এই টিকা গ্রহণের আওতাভুক্ত হবেন। তবে প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক নারী-পুরুষদের এই টিকা প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নাটোরের জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, সুষ্ঠুভাবে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ ছাড়াও সাতটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) টিকাদান কেন্দ্রসমূহে কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করছেন।
নড়াইল :পৌরসভার আয়োজনে পৌরসভার উজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। শনিবার জেলার দুটি পৌরসভাসহ ৩৮টি ইউনিয়নের ৫৬টি কেন্দ্রের বিভিন্ন বুথের মাধ্যমে এই টিকা দেওয়া হয়।
পঞ্চগড় :পাঁচ উপজেলার ৪০টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার টিকাদান কেন্দ্রে করোনা ভাইরাসের গণটিকা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান প্রতিটি কেন্দ্রে টিকাদান কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন।
এ ছাড়া চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি ও চৌহালী, ভোলার বোরহানউদ্দিন, টাঙ্গাইলের বাসাইল ও নাগরপুর, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, পাবনার ফরিদপুর, চাটমোহর ও আটঘরিয়া, ফরিদপুরের সদরপুর ও মধুখালী, বরগুনার বামনা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, পিরোজপুরের নাজিরপুর, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি, বরিশালের আগৈলঝাড়া, দিনাজপুরের বিরামপুর, কুমিল্লার দাউদকান্দি, চুয়াডাঙ্গার জীবননগর, লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।