কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আকাশিয়া ও ইউক্যালিপটাস গাছের আচরণ বিরূপ। বনবিভাগের ক্ষতিকর তালিকায়ও ইউক্যালিপটাস গাছের নাম শীর্ষে রয়েছে। পরিবেশবান্ধব নয় এবং এগুলো নানাভাবে ক্ষতিকর হওয়ায় বনায়নে নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে। এরপরও সম্প্রতি সময়ে কমলগঞ্জের নার্সারিগুলোতে বাড়ছে এসব গাছের চারা উত্পাদন ও চাহিদা। উপজেলার কয়েকটি নার্সারি ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দ্রুত বর্ধনশীল থাকায় গত কয়েক দশকে বিদেশি প্রজাতির আকাশিয়া ও ইউক্যালিপটাস গাছের বনায়নের হিড়িক পড়েছে। তবে ক্ষতির বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রকাশ পাওয়ায় সরকার ২০০৮ সালে ইউক্যালিপটাস গাছের চারা উত্পাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ করে। কিন্তু তারপরও উপজেলার শমশেরনগর ও পতনউষার এলাকার অর্ধশতাধিক নার্সারিতে ইউক্যালিপটাস ও আকাশিয়া গাছের চারা উত্পাদন হচ্ছে, যা কিনা জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। এদিকে নার্সারি মালিকরা জানান, ক্রেতাদের প্রচুর চাহিদার কারণে এসব গাছের চারা উত্পাদন করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বনভূমির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) কবির বিন আনোয়ার বলেন, নতুন বনায়নের ক্ষেত্রে বর্তমানে আকাশিয়া ও ইউক্যালিপটাস গাছের একচেটিয়া ব্যবহার দেখা যায়। পরিবেশবান্ধব নয় বিধায় এ গাছ লাগানো বন্ধ করা দরকার। পরিবর্তে পশুপাখির বাসস্থান ও খাদ্য হিসেবে ব্যবহূত হয় এমন ফলবান গাছ লাগানো প্রয়োজন।
প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মা একটি গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ইউক্যালিপটাস, আকাশি, শিশু, মেহগনি, রেইনট্রি গাছগুলো অত্যধিক পানি শোষণ করে জমি শুকিয়ে ফেলে। শিকড় গভীরে প্রোথিত না হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে আশপাশে অন্য গাছ জন্মাতে দেয় না। তার মতে, আমাদের দেশে দরকার জলজ উদ্ভিদ। এখানে জলজ জায়গা বেশি। শিকড় গভীরে প্রোথিত হয়। ফলে পাশে অন্যকিছুও জন্মাতে পারে।
কৃষক মোবাশ্বির আলী বলেন, আকাশিয়া, ইউক্যালিপটাস গাছ থাকলে ধান ও মাছ চাষা মোটেই হয় না। এগুলোতে পাখির খাবার নেই। পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে ও মাটি দেবে যায়।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দীন আহমদ বলেন, আকাশি ও ইউক্যালিপটাস গাছের ছায়ায় ধান গাছের পাতা মোড়ানো রোগসহ বিভিন্ন ছত্রাকে আক্রান্ত করে। এগুলো প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ মৌলভীবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ইউক্যালিপটাস গাছ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। আমরা এসব গাছ উত্পাদন ও রোপণ থেকে বিরত আছি।
কমলগঞ্জের রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এখন এসব গাছ রোপণ এবং সরকারি নার্সারিগুলোতে চারা উত্পাদন সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে নার্সারি মালিকরা হয়তো চারা উত্পাদন করছে।