তিন মাস বন্ধ থাকার পর সিলেটের চারটি শুল্ক স্টেশন দিয়ে পাথর আমদানি শুরু

হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস

দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর সিলেটের ভোলাগঞ্জ, সুনামগঞ্জের বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী এই চারটি শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে আবারও পাথও আমদানি শুরু হয়েছে। এতে বর্তমান মহামারির সময়ে ব্যাবসায়িক ঘাটতি পূরণ আশা করা হচ্ছে। লাখ লাখ শ্রমিকের ঘরে চুলা জ্বালানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ‘আমাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকেছিল, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে না খেয়ে দিন কাটিয়েছি। এখন বাঁচার উপায় হলো। ব্যবসা সুষ্ঠুভাবে চললে ঘরে খাবার জোগাড় হবে’—একথা বলছে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকরা। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই আমদানি কার্যক্রম শুরু হলে চার শুল্ক স্টেশন সচল হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মনে খুশির জোয়ার বইছে। শ্রমিকের মধ্যে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। করোনা মহামারির কারণে সিলেটের ভোলাগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের তিনটিসহ চার শুল্ক স্টেশন দিয়ে গত ১ মে থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে পড়লে প্রায় ১ হাজার আমদানিকারক ও এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় ১০ হাজার কর্মচারী ও অন্তত ৫০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন চারটি বন্দরের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ।

সূত্র মতে, ভারতের সংশ্লিষ্ট এলাকার খনি থেকে মাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাথর, কয়লা ও চুনাপাথর উত্তোলন করা হয় সারা বছর। আর এগুলো সুনামগঞ্জর তিন শুল্ক স্টেশন, সিলেটের ভোলাগঞ্জ, তামাবিল ও বিয়ানীবাজারের সুতারকান্দি শুল্ক স্টেশন দিয়ে রপ্তানি করে ভারত। মহামারির কারণে গত ১ মে থেকে ঐসব স্টেশন দিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়লে  বিপুল পরিমাণ এলসির টাকা আটকা পড়ে ভারতে। বেকায়দায় পড়েন ব্যবসায়ীরা।

ভোলাগঞ্জ শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, প্রথম দিন ভোলাগঞ্জ দিয়ে ৩০ ট্রাক চুনাপাথর দেশে প্রবেশ করে। মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা পণ্যবাহী ট্রাকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধী স্প্রে ও চালকদের সুরক্ষাসামগ্রী পরীক্ষা করেন। ভ্যাকসিন প্রয়োগের সার্টিফিকেট পরীক্ষা করা হয়। স্থানীয় চুনাপাথর ব্যবসায়ী মনির উদ্দিন জানান, এখন স্বস্তি অনুভব করছেন ব্যবসায়ীরা। ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি হাজি মো. সাহাব উদ্দিন জানান, আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়ে উঠলে লোকসান থেকে ব্যবসায়ীরা দ্রুত বেরিয়ে আসবেন। উল্লেখ্য, ভোলাগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে দৈনিক অন্তত ৫০০ ট্রাক চুনাপাথর আমদানি করা হয়।