আগৈলঝাড়ায় সাবেক যুবলীগ নেতার কর্মকাণ্ডে অতীষ্ঠ গ্রামবাসী

বরিশালের আগৈলঝাড়ার রত্নপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ মোহম্মদ নুরুদ্দিনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতীষ্ঠ দুটি হিন্দু গ্রামের বাসিন্দা। সাঈদের নির্যাতন আর অত্যাচারের বর্ণনা শুনতে শুনতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকেরাও বিব্রত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রত্নপুর ইউনিয়নের সুন্দরগাঁও এবং থানেশ্বরকাঠি গ্রামের হিন্দু পাড়াগুলোর নারী-পুরুষের কাছে সাঈদ এক মূর্তিমান আতঙ্ক। মাদকাসক্ত সাঈদ হিন্দু নারীদের প্রায়ই নির্যাতন করে থাকেন। যুবকরা এর প্রতিবাদ করলে তারা হামলার শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়িত। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার দুপুরে ইজিবাইক চালক মোহনকাঠি গ্রামের বিনোদ বিশ্বাসের ছেলে প্রতিবাদী যুবক বিপুল বিশ্বাসকে (৩০) রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় তার গতিরোধ করে দা দিয়ে কুপিয়ে তার দুহাত মারাত্মক জখম করেছে সাঈদ।       শুধু হামলাই নয়; বিপুলের সঙ্গে থাকা ২ হাজার ৫০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তার ইজিবাইকটিও আটকে রেখেছে সাঈদ। এ ঘটনায় সাঈদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার পরিবার।

এর আগে বৃহস্পতিবার সুন্দরগাঁও এলাকার শুশান্ত বৈদ্যর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেছে সাঈদ। সাঈদের হামলা থেকে বাদ যায়নি ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতা অবনী সরকারও। সাঈদের হামলার শিকার হয়েছে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা কৃষ্ণ কান্ত বৈদ্যসহ ঐ গ্রামের অন্তত শতাধিক লোক।

এসব ঘটনায় থানায় মামলা তো দূরের কথা; তার বিরুদ্ধে কারো সাহস নেই টু শব্দ করার।

থানেশ্বরকাঠি গ্রামের সত্য রঞ্জন হালদার (৬৬), বুদ্ধিশ্বর সরকার (৬৪), নিগাম সরকার (৩৫), দিপংকর হালদার (৩৫), অমল রায় (৬০), নির্মল সরকার (৭০) বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরেও সাঈদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ঐ গ্রামের লোকজনের মনে হয় অন্য কোনো দেশে বসবাস করছেন তারা।

গ্রামের সাধারণ কৃষক মৃত শাহাজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে আবু সাঈদ মো. নুরুদ্দিন। এক বোন চার ভাইয়ের মধ্যে সাঈদ সবার ছোট।

উপজেলা যুবলীগ সভাপতি সাইদুল সরদার বলেন, সাঈদের বেপরোয়া, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে দল বিব্রত। কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থাও নেওয়া যাচ্ছে না। তবে তার বিষয়ে দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে একটা ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. লিটন সাঈদের মাদকাসক্তির কারণে অত্যাচার, নির্যাতনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার নির্যাতন ও হামলা থেকে ঐ এলাকার কেউ রেহাই পায় না। বিশেষ করে হিন্দু অধ্যুষিত দুটি গ্রামের লোকজনকে সে প্রায় জিম্মি করে রেখেছে। বর্তমানে সাঈদের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার বলেন, এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি কেউ। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।