‘রেমিট্যান্স ম্যাজিক’ শেষ হতে চলেছে :ড. দেবপ্রিয়

দেশে ‘রেমিট্যান্স ম্যাজিক’ শেষ হতে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমাদের অর্থনীতির সব থেকে শক্তিশালী জায়গা ছিল বৈদেশিক খাত। নতুন ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাসের তথ্যানুযায়ী এই বৈদেশিক খাতে একধরনের ভাঙন ধরেছে। জুলাই মাসে ১১ দশমিক ২০ শতাংশ রপ্তানি কম হয়েছে। জুলাই মাসে রেমিট্যান্স কমেছে ২৮ শতাংশ। রেমিট্যান্স খাতের যে ম্যাজিক, সেটা সম্ভবত শেষ হতে চলেছে। কারণ মানুষের প্রবাসে যাওয়া কমেছে। ফিরে এসেছে আগের চেয়ে বেশি। রপ্তানিতে আমরা আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারব কি না, সেটা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।

গতকাল রবিবার           এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২১-২২ বাস্তবায়ন :পিছিয়ে পড়া মানুষেরা কীভাবে সুফল পাবে?’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আরো বক্তব্য দেন কোর গ্রুপের সদস্য রাশেদা কে চৌধূরী, ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী, শাহীন আনাম, ড. ইফতেখারুজ্জামান, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও আসিফ ইব্রাহিম।

এই মুহূর্তে অর্থনীতির তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কথা উল্লেখ করে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এগুলো হলো গণটিকা কর্মসূচি, প্রণোদনা প্যাকেজ ও মূল্যস্ফীতি। বাজেটে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য আর্থিক ও খাদ্যসহায়তায় বরাদ্দ কম। এই বরাদ্দ বাড়াতে হবে। এছাড়া তাদের গণটিকা কর্মসূচির আওতায় আনতে বেসরকারি সংস্থাকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।

সরকারিভাবে যে প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে, সে বিষয়টি বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম চলে আসছে বহু বছর ধরে। অথচ এটাকে প্রণোদনা বলা হচ্ছে। দরিদ্রদের জন্য বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সেটিও কোভিডকালের প্রণোদনা বলা হচ্ছে। সরকার একটা বড় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প করেছে। এটাকে প্রণোদনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ১ হাজার ৬০০ পরিবারের ওপর আমরা জরিপ চালিয়েছি, সেখানে দেখা গেছে ৮০ দশমিক ৬০ শতাংশ মানুষ খাদ্যের ব্যয় কমিয়ে দিয়েছে। ৪৭ দশমিক ২০ শতাংশ প্রোটিন খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। তারা আর মাছ-মাংস খাচ্ছে না। এদের যদি প্রত্যক্ষভাবে আর্থিক ও খাদ্যসহায়তা না দেওয়া হয়, তাহলে এই মানুষগুলো শুধু দারিদ্র্য ও বৈষম্যের শিকার হবে না, পরবর্তী প্রজন্ম আরো বেশি পুষ্টিহীনতাসহ শারীরিক-মানসিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বড় হবে।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক কালে অর্থনীতির উচ্ছ্বাসের নিচে যে কালো ছায়া আছে, সেটা হলে আমাদের ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ কোনোভাবেই আমরা বাড়াতে পারছি না। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থায় নেমে গেছে। ব্যাবসায়িক গোষ্ঠীসহ অনেকে বলেছিলেন, সুদের হার কমিয়ে দিলে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়বে। এই তত্ত্ব যে সঠিক ছিল না, এটা আজ পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছে। মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্য ধরা হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে তিনি মনে করেন। সুলতানা কামাল বলেন, আশা করেছিলাম এবার পুনরুদ্ধারের বাজেট হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য, পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য তেমন কিছু নেই।