চেহারায় ছোটখাটো খুঁত নিয়ে প্রায় আমরা বেশ অস্থিরতায় ভুগি। তখনই আমরা শরণাপন্ন হই মেকআপের। মেকআপের সাহায্য খুঁত ঢেকে চেহারাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার মাঝেই রয়েছে মেকআপের আসল জাদু। লিখেছেন সৈয়দা রাকীবা ঐশী
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে রিয়ার হঠাত্ নজরে পড়ল ঠোঁটের কাছে একটা ব্রণ দেখা যাচ্ছে। এদিকে আজ প্রথম একটা মডেলিং এজেন্সিতে রিয়া তার পোর্টফোলিও জমা দিতে যাবে। আর এমন দিনেই এই ব্রণের সমস্যা। এমন নানা সমস্যায় আমরা প্রায় প্রতিদিনই পড়ি। কিন্তু এ নিয়ে চিন্তা না করে সঠিক মেকআপে নিখুঁতভাবে ঢেকে যেতে পারে সব সমস্যা। কীভাবে পাবেন এই নিখুঁত টাচ জেনে নিন।
মেকআপের আগের পরিচর্যা
l মেকআপ করার আগে মাইল্ড ফেসওয়াশ দিয়ে ভালো করে মুখ ধুয়ে ফেলুন।
l ক্লেনজিং মিল্ক দিয়ে মুখ মুছুন।
l টোনার দিয়ে মুখ ভালো করে মুছে ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।
l সবার প্রথমে লিকুইড ফাউন্ডেশন দিয়ে শুরু করুন। স্পঞ্জ দিয়ে ঘাড়ে, মুখে, গলায় হালকা ফাউন্ডেশন লাগান। সেইসঙ্গে মেকআপের ব্লেন্ডিংয়ের দিকেও নজর দিন।
l মুখে বা কপালে কোথাও যদি সূক্ষ্ম ভাঁজ থাকে কনসিলার ব্যবহার করুন ফাউন্ডেশন ব্যবহার করার পর।
l হালকা করে কম্প্যাক্ট মুখে বুলিয়ে নিন।
l এরপর চোখের মেকআপের পালা। যদি চোখের নিচে কালি থাকে তবে কয়েক ফোঁটা কনসিলার চোখের ঠিক তলায় দিয়ে ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এরপর চোখের মাপ অনুযায়ী আই শ্যাডো লাগান। সব শেষে মাশকারা লাগান।
কীভাবে ভালো মেকআপ করবেন
l যারা ফর্সা তারা হালকা রঙের মেকআপ বেছে নিন। চোখের সাজের জন্য ব্লু অথবা ল্যাভেন্ডার কালার ভালো মানাবে। মাশকারার রং বেছে নিতে পারেন কালো অথবা খয়েরি।
l যারা কিছুটা শ্যামলা তারা নিজের গায়ের রঙের কাছাকাছি শেডের ফাউন্ডেশন বেছে নিন।
মেকআপের জন্য কী কী জিনিস দরকার
ক্লেনজার
এটি মুখে জমে থাকা অতিরিক্ত ময়লা বা তেল এবং অন্যান্য দূষণকারী পদার্থ পরিষ্কার করে। মেকআপ শুরু করার আগে ক্লেনজার ব্যবহার করা দরকার। মেকআপ তোলার জন্য এটি সমানভাবে জরুরি। ব্রণ কমাতে ক্লেনজার অনেক প্রয়োজনীয়।
টোনার
মুখে জমে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে টোনার। ক্লেনজার মুখের তৈলাক্তভাবও দূর করে। মুখে যে কোনো কসমেটিকস ব্যবহার করার আগে টোনার ব্যবহার করা আবশ্যক। তুলার মধ্যে ৪-৫ ফোটা টোনার ঢেলে হাতে মুখ এবং গলা পরিষ্কার করে নিতে হবে। টোনার সব সময় মুখের নিচ থেকে উপরের দিকে লাগান। খুব শুষ্ক ত্বক হলে টোনার ব্যবহার না করাই ভালো।
ময়েশ্চারাইজার
ত্বকের ওয়াটার কনটেন্ট বাড়িয়ে দিয়ে আর্দ্র করে তোলে ময়েশ্চারাইজার। এছাড়াও মুখের রুক্ষ এবং শুষ্ক ভাব কমাতে সাহায্য করে ময়েশ্চারাইজার। তবে যাদের মুখের ত্বক কিছুটা তেলতেলে তারা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করাই ভালো।
ব্লাশঅন
মেকআপ করার একটি অন্যতম অংশ ব্লাশঅন দেওয়া। এটি মেকআপকে পূর্ণতা দেয় এবং মেকআপকে আরো সজীব ও প্রাণবন্ত করে। এটি বিভিন্ন টাইপের পাওয়া যায়। পাউডার ও জেল সাধারণত তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো। ক্রিম টাইপেরটা শুষ্ক ত্বকের জন্য বেশি ভালো। আর স্বাভাবিক ত্বকে যেকোনোটাই লাগাতে পারেন। যে টাইপের ব্লাশঅনই সিলেক্ট করুন না কেন লক্ষ করুন তার শেডটি যেন আপনার স্কিন টোনের সঙ্গে মানিয়ে যায়। সবসময় এমন শেড চয়েস করুন যেন তা ন্যাচারাল দেখায়। পুরো মেকআপ দেওয়ার পর ব্রাশে হালকা ব্লাশঅন নিয়ে, ব্রাশটা একটু ঝেড়ে নিন। ক্রিম বা জেল হলে অনামিকা দিয়ে লাগান অল্প করে। নাকের দিক থেকে উপরের দিকে মানে কানের দিকে ব্রাশটি দিয়ে ব্লাশঅন করবেন ও ব্লেন্ড করবেন। ব্রাশ গোল গোল করে ঘুরিয়ে ব্লাশঅন করবেন না।
মডেল তানজিন তিশা