দুর্ভোগে ১৫ গ্রামের মানুষ
পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা
পাটগ্রাম উপজেলার জগেবড় ইউনিয়নের দেওদাপাড়া গ্রামের চেনাকাটা শাখা নদীর উপর স্থাপিত বন্যায় বিধ্বস্ত সেতুটি গত চার বছরেও সংস্কার বা নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সেতুর দুই দিকে নড়বড়ে বাঁশ ও কাঠের তৈরি সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ১৫ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা সেতুটি সংস্কার অথবা পুনর্নির্মাণে দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পাটগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর জানায়, ১৯৯২ সালের দিকে ৫০ ফুট দীর্ঘ এ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালের আগস্ট মাসের বন্যায় সেতুটির উত্তর অংশের সংযোগ সড়ক ধসে যায়। স্থানীয় গ্রামবাসী সেতুর ঐ অংশে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করেন এবং দক্ষিণ অংশে মাটি দিয়ে ভরাট করে চলাচল উপযোগী করেন।
দেওদাপাড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল করিম বলেন, ‘ভাঙা বাঁশেরপুল (সাঁকো) দিয়ে গ্রামের মানুষ কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য উপজেলার হাটবাজারে নিতে পারে না। সেতুটি ভালো করা হলে এলাকার ফসল সরাসরি যানবাহনে হাটবাজারে নিতে খরচ কম হবে।’ একই এলাকার হাফিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে সাঁকোটিও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ পর্যন্ত অন্তত ২৫-৩০ জন সাঁকো থেকে পড়ে আহত হয়েছেন। আতোয়ার রহমান জানান, ঐ সেতু হয়ে পাটগ্রাম উপজেলা সদরে যেতে সড়কের দূরত্ব হয় প্রায় ৬ কিলোমিটার। আর সেতুটি দিয়ে চলাচল করা সম্ভব না হলে কাঁচা সড়কসহ প্রায় ১৬ কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে করে জনসাধারণের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। পণ্য পরিবহনে খরচ পরে দিগুণ।
সেতু এলাকার ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সেতুটি বহুদিন ধরে ভেঙে থাকায় হাজার হাজার গ্রামবাসীর চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয়রা চাঁদা তুলে সেতুর উত্তর দিকে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে দেয়। সেতুর বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু চার বছর ধরেও কেন সেতুটির কাজ করা হচ্ছে না তা জানি না। জগেবর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নবিবর রহমান বলেন, এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, সেতুটির নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব-উল-আলম জানান, ‘সেতুটি পরিদর্শন করে নির্মাণের জন্য প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত নির্মাণ করে জনদুর্ভোগ রোধে আমরা যোগাযোগ করছি। অনুমতি আসলেই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।’