বগুড়ায় সাইবার অপরাধের শিকার বেশির ভাগই নারী

অভিযোগ নিয়ে আসছে তারা

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

গত তিন বছরে দুই শতাধিক সাইবার অপরাধের নিষ্পত্তি করেছে বগুড়া সাইবার পুলিশ ইউনিট। এসব অভিযোগকারীর মধ্যে গৃহবধূ ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সংখ্যাই বেশি। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামে অপপ্রচার, পদ্মা সেতু নিয়ে গুজব ছড়ানোর মতো অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশের সাইবার ইউনিট।

বগুড়ার বিদায়ি পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞার উদ্যোগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বগুড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে সাইবার পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতেই ব্যাপক সাড়া ফেলায় ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি রাজশাহী রেঞ্জের তত্কালীন ডিআইজি এম খুরশীদ হোসেন বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাইবার পুলিশ বগুড়ার ইউনিটের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

ফেসবুকে গুজব রটানো, রাষ্ট্রবিরোধী প্রচার, জঙ্গি তত্পরতাসহ সাইবার অপরাধ দমনে তত্পর সাইবার পুলিশ ইউনিট। বিশেষ করে ফেসবুক বা বিভিন্ন অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার শিকার নারীরা তাদের অভিযোগ নিয়ে আসতে শুরু করে সাইবার পুলিশের কাছে। তাদের পরিচয় গোপন রেখে এবং অনেকের পরিবারকে না জানিয়ে সমস্যার সমাধান করা হয়।

বগুড়ার সাইবার পুলিশ ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ার সাইবার পুলিশের বিভিন্ন অপরাধ নিষ্পত্তি করার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এক গৃহবধূর ঘটনা। ঐ গৃহবধূকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক ভুয়া আইডি থেকে বিরক্ত করা হতো। তিনি বিষয়টি থেকে রক্ষা পেতে পুলিশের সাইবার ইউনিটে এসে অভিযোগ দেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ফেইক আইডির মানুষকে চিহ্নিত করা হয়। তিনি আর কেউ নন, ঐ গৃহবধূরই স্বামী। তাকে অন্য জেলা থেকে আটক করা হয়। তারা দুই জনই (স্বামী-স্ত্রী) এখন ভালো আছেন। তাদের আর কোনো অভিযোগ নেই।

আরেক ঘটনার ভুক্তভোগীও এক গৃহবধূ। যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মালয়েশিয়া প্রবাসী এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। সকালে সন্তান স্কুলে চলে যেত। স্বামী চলে যেতেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। তখন বাড়িতে তিনি থাকতেন একা। এ সময় ভিডিও ফোনে চলত তাদের পরকীয়া। এভাবে এক বছর পেরিয়ে যায়। হঠাত্ রায়হান যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। কোনোভাবেই রায়হানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন না ঐ গৃহবধূ। এক সময় ভুলে যেতে থাকেন রায়হানকে। কিন্তু কিছুদিন পরেই ঐ গৃহবধূ দেখতে পান তার ছবি দিয়ে একটি নতুন ফেসবুক আইডি খোলা হয়েছে। তার পরিচিত অনেকেই অ্যাড হয়েছেন সেই আইডির সঙ্গে। এই আইডি থেকে তার নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এমন ঘটনায় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে তার স্বামীর কাছে চলে যায় তার নগ্ন ছবি। তার স্বামী বিষয়টি সমাধানের জন্য পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সাইবার ইউনিট খোঁজ নিয়ে দেখে ঐ আইডি মালয়েশিয়া থেকে রায়হান চালাচ্ছেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ঐ ফেক আইডিসহ রায়হানের সব আইডি বন্ধ করে দেয় সাইবার পুলিশ। এতে স্বস্তি ফিরে ঐ গৃহবধূর মনে। স্বামী-স্ত্রীর ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে সাইবার পুলিশের কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে।

বিদায়ি পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, সাইবার পুলিশের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে ২২০টি অভিযোগ। মামলা হয়েছে ৩৫টি এবং অভিযোগকারী মামলা না করায় বিকল্পভাবে নিষ্পত্তি করা হয় আরো ১৮৫টি অভিযোগ। ১৮৫টি অভিযোগের অধিকাংশই ছিল স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও গৃহবধূদের।