বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের (বিএনএসিডব্লিউসি) ১৭তম সাধারণ সভা গতকাল সোমবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফরমে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ সভায় বিএনএসিডব্লিউসির চেয়ারম্যান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সভাপতিত্ব করেন।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা থেকে সর্বমোট ৪২ জন সদস্য এ সভায় অংশগ্রহণ করেন। সভায় বিএনএসিডব্লিউসির বর্তমান কাজগুলো পর্যালোচনা করা হয় এবং বাংলাদেশে রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন (সিডব্লিউসি) কার্যকরীভাবে বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যত্ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নের ফলে দেশে রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে রাসায়নিক দুর্ঘটনার সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই প্রেক্ষাপটে দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সাড়া দানকারী সংস্থাসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধির ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন চেয়ারম্যান।
এছাড়াও বাংলাদেশে কার্যকরী রাসায়নিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা ও কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে সভায় আলোচনা করা হয়। সিডব্লিউসিকে কার্যকরীভাবে বাস্তবায়নের জন্য এবং দেশে রাসায়নিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা আরো সুসংহত করার জন্য বর্তমানে প্রচলিত আইন বা বিধিমালা/নীতিমালাসমূহের প্রয়োজনীয় ও যুগোপযোগী সংশোধনের ব্যাপারে সবাই মত প্রকাশ করেন।
রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন-সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালাসমূহ দ্রুত ও কার্যকরীভাবে বাস্তবায়নের জন্য ‘রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ আইন, ২০০৬’কে ‘মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’-এ অন্তর্ভুক্ত করার ব্যাপারে সভায় আলোচনা করা হয়। দেশে তপশিলভুক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের আমদানি-রপ্তানিকে আরো সুসংহত করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি করার ব্যাপারে মত প্রকাশ করেন চেয়ারম্যান। করোনাকালে অনলাইনে বিএনএসিডব্লিউসি কর্তৃক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমগুলো চলমান রাখার বিষয়ে চেয়ারম্যান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।—আইএসপিআর