এখন তো কম-বেশি সবাইকেই বাড়ির নানা কাজ করতে হচ্ছে। তার মধ্যে ঘর ঝাঁট দেওয়া আর মোছার সময়েই হাড়ে ব্যথা পাওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। হাড় সুস্থ না থাকলে আমাদের প্রতিদিনের কাজ করতে অনেক অসুবিধা হয়। এজন্য আমাদের উচিত আমাদের হাড়গুলি সুস্থ রাখা এবং তাদের যত্ন নেওয়া। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ঘনত্ব কমতে শুরু করে। এ কারণে হাঁটাচলা ও কাজ করতে সমস্যা হয়।
হাড়ের দুর্বল হওয়া ফ্র্যাকচারের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে এমন কয়েকটি ইঙ্গিত রয়েছে যা থেকে বোঝা যায় আপনার হাড়গুলি দুর্বল হচ্ছে। তাই কোনোভাবেই সেগুলিকে অবহেলা করা উচিত নয়।হাঁটু ততটাই ভাঁজ করুন যতটা আপনি সাবলীলভাবে করতে পারেন। তার বেশি ঝোঁকার বা চাপ দেওয়ার দরকার নেই। মনে রাখবেন, বেশি বয়স পর্যন্ত সুস্থ ও সাবলীল থাকতে গেলে হাড়ের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক আগে থেকে যত্নশীল হতেই হবে।
কী ভাবে ক্ষয়-ক্ষতি হাত থেকে হাড় বাঁচানো সম্ভব, তা জেনে নেওয়া যেতেই পারে। এমন অনেক খাবার রয়েছে যেগুলি নিয়মিত খেতে পারলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মিটিয়ে হাড় হয়ে ওঠে মজবুত!
হাড় সবল রাখার জন্য পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি দরকার। সূর্যালোকে আছে এই ভিটামিন। তাই দিনের একটি সময় রোদে হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়াম করা উচিত। এই অভ্যাস থাকা দরকার সব বয়সই। এ ছাড়া তৈলাক্ত মাছ, মাশরুম, ডিম ইত্যাদিতে আছে ভিটামিন ডি।
লেমনগ্রাসে ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে যা হাড় গঠনে উন্নতি করে এবং তাদের শক্তিশালী রাখে। এর বাইরেও এটি অনেক খাবারের স্বাদ বাড়ায়। এই ভেষজ হাড়গুলি সুস্থ রাখতে কার্যকরভাবে কাজ করে। এছাড়া ঢ্যাড়স, ব্রোকলি, সয়াবিন ও কাঠ বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম।তিলের বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম।
হাঁটুসহ শরীরের কোনও হাড়ে ব্যথা হলেই কিন্তু ব্যায়াম বন্ধ করে দিন, আগে ঠান্ডা সেঁক দিয়ে ব্যথা কমান, বিশ্রাম নিন, তার পর আবার ব্যায়াম হবে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাবে হাড়ের যত্নের নিয়মও। বিশেষ করে চল্লিশ বছরের পর মেয়েদের হাড়ের স্বাস্থ্য খারাপ হতে আরম্ভ করবে, কারণ সে সময় থেকেই ইস্ট্রোজেন তৈরিতে ঘাটতি আসে। তাই সুস্থ হাড়ের জন্য একেবারে কম বয়স থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া দরকার।
ইত্তেফাক/এফএস