এম এইচ আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
চকরিয়ায় বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মাতামুহুরী নদীতে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এতে আতঙ্কে রয়েছেন নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত হাজারও পরিবার। গত ২৮ জুলাই ভাঙন শুরু হয়েছে।
উপজেলার কৈয়ারবিল ইউপির প্রয়াত চেয়ারম্যান শহিদ হোছাইন চৌধুরীর ছেলে আফজল উর রহমান চৌধুরী বলেন, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যার পরবর্তী সময়ে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের দ্বীপকুল ও ভরন্যারচরের ছয়টি বাড়ি। এখনো শতাধিক বসতবাড়ি হুমকিতে রয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় এমপি জাফর আলম এবং পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দুই যুগের বেশি সময় ধরে মাতামুহুরী নদীর তীরবর্তী জনপদের এলাকা সাহারবিল ইউনিয়নের বাটাখালী ব্রিজের উত্তর প্রান্তে নাপিতের টোড়া, ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের দিগরপানখালী পয়েন্ট, চকরিয়া পৌরসভার শহর রক্ষা বাঁধ, কোচপাড়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবদুল বারীপাড়া, কাজীরপাড়া, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তরছঘাটা, জলদাশপাড়া ও বাটাখালী সেতুর দুই পাশ, বিএমচর ইউনিয়নের বেতুয়াবাজার সেতু পয়েন্ট, কন্যারকুম, কুরিল্যারতলা, বরইতলী ইউনিয়নের পহরচাঁদা, গোবিন্দপুর, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের খিলছাদক, লামারপাড়া, মণ্ডলপাড়া, জলদাসপাড়া, পূর্ববড় ভেওলার সেকান্দরপাড়া, শমসু মিয়ার বাজারের জলদাশপাড়া পয়েন্ট, কোনাখালী ইউনিয়নের কাইদ্যারডিয়া, সিকদাপাড়া পয়েন্ট ও মরং স্টেশন, কাকারা ইউনিয়নের কামাল উদ্দিন মাস্টারের ঘাটা, লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের রোস্তমআলী চৌধুরীপাড়া, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের দ্বীপকুল ও ভরন্যারচর এবং চিরিঙ্গা ইউনিয়নের একাধিক জনপদ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী জানান, চকরিয়া পৌরসভার তিনটি পয়েন্ট হয়ে মাতামুহুরী নদীর গতিপথ সাগরে মিলিত হয়েছে। এ কারণে সহজে ভাঙন তাণ্ডবে পড়েছে পৌরসভার বিস্তীর্ণ জনপদ। এতে ভিটেবাড়ি, চাষের জমি ও সড়ক নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এবারের বন্যায় চকরিয়া পৌর শহর রক্ষা বাঁধে দিগরপানখালী অংশটি বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে। বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে সেটি রক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এখানে আরসিসি ব্লক দিয়ে টেকসই প্রকল্প গ্রহণ করা জরুরি। আশা করি পাউবো এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবে।
কাকারা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শওকত ওসমান জানান, মাতামুহুরী নদীর ভাঙনে আমার ইউনিয়নের মাঝেরফাড়ি, কামাল মাস্টারের ঘাটা, রুদ্রপাড়াসহ আশপাশ এলাকাটি নদীগর্ভে পড়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। লক্ষ্যারচর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তাফা কাইছার জানান, এভাবে প্রতি বছর ভাঙন অব্যাহত থাকলে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে আমার ইউনিয়নের বিপুল ফসলি জমি, ৩৩ হাজার কেভির বিদ্যুত্ লাইনের টাওয়ার, খতিবে আজমসহ একাধিক সড়ক ও অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, মাতামুহুরী নদীর ভাঙনে নদীতীর এলাকার পরিবারগুলো গৃহহারা হচ্ছে। এখনো ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন থেকে চকরিয়াবাসীকে রক্ষা করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ করছি।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা শাখা কর্মকর্তা (এসও) শাহ আরমান সালমান জানান, নদীভাঙন প্রতিরোধে পাউবো অনেকগুলো প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে অর্থ বরাদ্দে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠিয়েছে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় সব স্থানে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।