বেগুন চাষে ফুলবাড়ীর কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা

ফুলবাড়ীর চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় বেগুন চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। যেসব কৃষকের নিজস্ব জমি নেই, তারাও অন্যের জমি লিজ নিয়ে বেগুন চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বেগুন চাষে লাভ হওয়ায় দিনদিন উপজেলায় এর চাষ বাড়ছে।

উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে কোনো জমি আর পতিত নেই। বিস্তীর্ণ মাঠে সবুজের সমারোহ। সকাল হলেই প্রান্তিক কৃষকেরা বেগুনখেতে পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এদিকে এ বছর খরা বেশি থাকায় বেগুন চাষের পাশাপাশি অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক চাষাবাদ হচ্ছে। বেগুনের দাম কম থাকায় চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কুরুষাফেরুষা এলাকার কৃষক ধীরেন্দ্রনাথ রায় জানান, তিনি এবার ২৫ শতক জমিতে আগাম বেগুনের চাষ করেছেন। তিনি গত ১৫ থেকে ২০ দিনে বেগুন বিক্রি করছেন প্রতি মণ ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। তিনি বলেন, এ বছর বেগুনের দাম নেই। তিনি গত বছর এই সময়ে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বেগুন বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, প্রতি বিঘায় বেগুন রোপণ করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বেগুনখেত রোগমুক্ত ও আবহাওয়া অনুকূলসহ বেগুনের ভালো দাম থাকলে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বিক্রি করা সম্ভব। যাবতীয় খরচ মিটিয়ে বিঘাপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়। কিন্তু এবার দাম না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। একই এলাকার আশিদুল ইসলাম, মন্টু বর্মন, হাসেম আলী, কমলা কান্ত রায়সহ অনেকেই জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর  বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে বিক্রি শুরু করা যাবে। তারা প্রত্যেকেই দেড় থেকে দুই বিঘা করে জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ জানান, বেগুন চাষে উদ্বুদ্ধ করা ও বিভিন্ন সহযোগিতা দেওয়ায় এ অঞ্চলের চাষিরা বেগুন চাষে ঝুঁকে পড়েছেন। অধিকাংশ কৃষক বেগুন বিক্রি করতে শুরু করেছেন। এ বছর খরা বেশি থাকায় বেগুনের পাশাপাশি অন্যান্য সবজিও ব্যাপক চাষাবাদ হওয়ায় বেগুনের দাম একটু কম। তবে চাষিদের লোকসান হবে না। লাভের অঙ্কটা একটু কমবে। শীত মৌসুমের জন্য উপজেলায় ১০০ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা আগাম বেগুনের চারা রোপণ করেছেন।