ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
ফরিদপুর (পাবনা) সংবাদদাতা
ফরিদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দাঁতের ডাক্তার থাকলেও ২০১৪ সাল থেকে বিকল হয়ে পড়ে আছে ডেন্টাল মেশিন। ফলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ১৬ জন ডাক্তারসহ ৬৬টি পদ শূন্য রয়েছে। এতে রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিত্সকদের।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করে ডাক্তারের পদ সংখ্যা বাড়ানো হলেও কখনো তা পূরণ করা হয়নি। ২৭টি পদের মধ্যে জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, গাইনি, কার্ডিও, অর্থো, ইনটি, আই, অ্যানেসথেসিয়াসহ ১৬টি পদ প্রায় ১০ বছর যাবত্ শূন্য রয়েছে। ১০ জন কর্মরত থাকলেও তিন জন আবার অন্য হাসপাতালে ডেপুটেশনে রয়েছে। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার পদও পাঁচ বছর ধরে শূন্য। সিনিয়র স্টাফ নার্সের ছয় পদের পাঁচটিই ১২ বছর ধরে শূন্য। ৩য় শ্রেণির ২২টি কর্মচারির পদও ১০/১২ বছর ধরে শূন্য রয়েছে। ৪র্থ শ্রেণির ২২টি পদের মধ্যে ১৬টি পদেই কেউ নেই। সার্জিক্যাল কনসালটেন্টের পদ খালি থাকায় অপারেশন থিয়েটার বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন। দাঁতের ডাক্তার ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট থাকলেও ২০১৪ সাল থেকে নষ্ট ডেন্টাল মেশিন। ফলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হচ্ছে না। রক্ত পরীক্ষার রি-এজেন্টও প্রয়োজনীয় পরিমাণে নেই। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. নাজমুস সাকিব জানান, প্রতিদিন গড়ে তিন শতাধিক রোগী আউট ডোরে চিকিত্সা নিতে আসে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চিকিত্সা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ৫০টি আবাসিক বেডের মধ্যে বর্তমানে ২০ টি করোনা রোগীর জন্য রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক মীর জানান, শূন্যপদ পূরণ, নষ্ট যন্ত্রপাতি মেরামত এবং সীমানা প্রাচীর তৈরির জন্য সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার জানানো হয়েছে। আশা করি, শিগগিরই সমস্যা সমাধান হবে।