আব্দুর রউফ রিপন, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
রাণীনগর উপজেলার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠটি এখন জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। মাঠ জুড়ে বেড়ে উঠেছে কচুরিপানা। আর তার ফাঁকে ফাঁকে দেখা মেলে মাছের। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে থাকে উপজেলার প্রধান এই মাঠটি। রাণীনগর পাইলট সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অধীনে থাকা এ খেলার মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধ থাকায় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থী ও যুবকরা। ফলে তারা মোবাইল গেমস, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। স্থানীয়রা খেলার মাঠটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন করার দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খেলাধুলায় উপজেলার সোনালি দিনের স্বাক্ষর বহন করে চলেছে কেন্দ্রীয় এই মাঠটি। এই মাঠে একসময় অনুষ্ঠিত হতো বিভাগীয়সহ জেলা-উপজেলা পর্যায়ের ফুটবল টুর্নামেন্ট। এছাড়াও ক্রিকেট, হ্যান্ডবলসহ উপজেলা পর্যায়ের সব ধরনের খেলা এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবসসহ জাতীয় ও আঞ্চলিক অনুষ্ঠানগুলো অনুষ্ঠিত হয় এই মাঠেই। এছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকাকালীন সময়ে এই মাঠে আয়োজন করা হতো বিভিন্ন ধরনের ছোট-বড় খেলার আসর। খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের মানুষ শরীর চর্চাও করত; কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই মাঠের কোনো সংস্কার না হওয়ায় এবং মাঠের আশপাশের জায়গা দখল করে অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মাণ করায় বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও বাসাবাড়ির পানি জমে মাঠটিতে সৃষ্টি হয়েছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার।
স্থানীয় বাসিন্দা খোকন, রাজু, হাসানসহ অনেকেই বলেন, দুই বছর আগেও মাঠে খেলাধুলা অনুষ্ঠিত হয়েছে; কিন্তু এখন আর সেই উপায় নেই। মাঠটি আশপাশের জায়গার তুলনায় নিচু হওয়ায়, পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজব্যবস্থা না রাখা ও মাঠ সংস্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির পানির সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন ভবনের নোংরা পানি মাঠে প্রবেশ করে। যার ফলে খেলোয়াড়রা অনুশীলন করতে পারেন না।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জয় বলেন, বর্তমানে প্রধান এই মাঠটি পানি ও কচুরিপানায় পূর্ণ থাকায় খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। ফলে তারা মোবাইল গেমস, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। যদি মাঠটি খেলার উপযুক্ত থাকত তাহলে প্রতিদিন সকাল এবং বিকালে শিক্ষার্থী ও যুবকরা খেলার চর্চা করত। এতে করে তাদের শরীরচর্চার পাশাপাশি বিনোদনের মাধ্যমে মানসিক বিকাশও ঘটত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, আমি চলতি বছর উপজেলায় যোগদানের পরই মাঠটি পরিদর্শন করেছি। দ্রুতই মাটি ভরাট করে মাঠটি খেলার উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করব। নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, ছোট বেলায় এই মাঠে খেলার আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে; কিন্তু বিভিন্ন কারণে মাঠটি তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করব এই মাঠটির হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে। এছাড়াও আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাঠটির পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজব্যবস্থা নির্মাণ করাসহ যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছি। আশা রাখি দ্রুত কাজ শুরু হবে।