নদীভাঙনে বিপর্যস্ত জনজীবন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার ১০ নম্বর ধোপাছড়ী ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাটি শ্যামল বীথিকায় আচ্ছাদিত। এখানকার সাপ্তাহিক বাজার সংলগ্ন ১ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শংখকূল-পূর্ব ধোপাছড়ী, ক্যাম্পপাড়া এলাকাগুলো সাঙ্গু নদীর একদম তীরে অবস্থিত। সাঙ্গুর সঙ্গে মিলিত হয়েছে ধোপাছড়ী খাল। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। সাঙ্গু নদী ও ধোপাছড়ী খালের তীরবর্তী হওয়ায় পড়ে নদী ভাঙনের কবলে। এ বছরও বন্যার পানি প্লাবিত হয়ে বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও  গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিঃস্ব হয়েছে সহস্রাধিক পরিবার এবং আরো দু-তিনটি পাড়া বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এদিকে বয়োবৃদ্ধ মানুষ, নারী ও শিশু ধোপাছড়ী খাল বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ইউনিয়নটির সঙ্গে উপজেলা সদরের সরাসরি যাতায়াতের অসুবিধায় কৃষকেরা তাঁদের উত্পাদিত পণ্য যথাযথ বাজারজাত করার অভাবে ন্যায্যমূল্য থেকে তো বঞ্চিত হচ্ছেনই, পাশাপাশি মুমূর্ষু রোগী চিকিত্সার অভাবে মারা যাচ্ছেন। জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে ধোপাছড়ী খালের ওপর সেতু নির্মাণের আশ্বাস পাওয়া গেলেও আজো বাস্তবতার মুখ দেখেনি। বর্ষা মৌসুমে প্রবল বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি বিপত্সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বর্তমানে এই খালের ওপর দিয়ে যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সাঁকোটি বিলীন। এ অবস্থায়, এই খালের ওপর সেতু ও শক্ত ব্লকের বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে জনসাধারণের যাতায়াত ও বসতবাড়ির নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে সংশ্লি­ষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।

মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, ধোপাছড়ী, চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম