ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজন ব্যক্তিগত সচেতনতা

করোনার এই সময়ে নতুন আতঙ্কের নাম ডেঙ্গু। শুধু ঢাকাতে প্রতিদিন শত শত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবু অধিকাংশ মানুষেরই এখনো পর্যন্ত নেই কোনো সচেতনতা। মনে রাখতে হবে, ডেঙ্গু কিন্তু আমাদের কর্মের ফল। ফুলের টব, টায়ার, ডাবের খোলা, প্লাস্টিকের খালি বোতল, নির্মিত বা নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে জমে থাকা পানি ইত্যাদি কারণে এডিস মশার বংশ বিস্তার ঘটে। ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের কাপে চা খাওয়ার সময় হলেও সে পাত্র যথাস্থানে ফেলার সময় আমাদের অনেকেরই হয় না। বৃষ্টি হলেই দেখা যায় রাস্তা বা গলির মোড়ে এসব চায়ের কাপে পানি জমে থাকছে। নির্মাণাধীন বাড়ির মালিকদের এ বিষয়ে কোনো সতর্কতা নেই বললেই চলে। বেশিরভাগ ভবনের চারপাশ নোংরা ও আবর্জনায় ভর্তি। বাসায় ময়লার ঝুড়ি থাকা সত্ত্বেও আমরা ডিমের খোসা, চিপসের প্যাকেটসহ পলিথিনের ব্যাগ জানালা দিয়ে ফেলে দেই। ফলে এসব জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়। এছাড়া আমরা অনেকেই দিনে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করি না। এর ফলে অতি সহজেই আমরা ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হতে পারি। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলাতেই কামড়ায়। তবে কামড়ানোর হার সবচেয়ে বেশি থাকে সূর্যোদয়ের পর দুই-তিন ঘণ্টা এবং সূর্যাস্তের আগের কয়েক ঘণ্টা। তাই এ সময়ে আমাদের খুব বেশি সচেতন থাকতে হবে। এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধে বাসার আশপাশে ফেলে রাখা মাটির পাত্র, কলসি, বালতি, ড্রাম, ডাবের খোলা ইত্যাদি যেসব জায়গায় পানি জমতে পারে সেসব স্থানে যেন পানি জমতে না পারে, সে ব্যাপারে লক্ষ রাখতে হবে এবং নিয়মিত বাড়ির আশপাশে পরিষ্কার করতে হবে। তাহলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে আসবে।

মো. সৈয়দুর রহমান

শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ