কুষ্টিয়ায় করোনা হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল রোগীরা সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থায় সরবরাহকৃত উচ্চমাত্রার অক্সিজেন চাহিদামতো পাচ্ছেন না। ফলে হাসপাতালে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা। কুষ্টিয়া হাসপাতালে ভর্তি কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যুর কারণ নির্ণয়ে চিকিত্সকদের অনুসন্ধানে উঠে আসে এসব তথ্য। হাসপাতালে ভর্তি কোভিড-১৯ রোগীর শতকরা ১০ থেকে ১৫ ভাগ রোগী মারা যাচ্ছে আইসিইউ সাপোর্ট না পেয়ে। শুধু সরকারি হিসাবেই জেলায় এ পর্যন্ত করোনায় মারা গেছে ছয় শতাধিক। গতকাল মঙ্গলবার কুষ্টিয়া ম্যাটস্ ভবনের হলরুমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
জানা যায়, কুষ্টিয়া ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে মাত্র ১০টি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন ও মাত্র ১০টি বেডের সঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মহামারি করোনা প্রাদুর্ভাবে হাসপাতালে ক্রমান্বয়ে ১৬৫টি বেডের সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন সংযুক্ত করা হয়। এতে কোভিড আক্রান্ত স্বল্প ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর ক্ষেত্রে অক্সিজেন সরবরাহে কোনো সংকট না থাকলেও বিপত্তি ঘটেছে উচ্চমাত্রার অক্সিজেন চাহিদাসম্পন্ন ক্রিটিক্যাল রোগীর চিকিত্সায়। সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট থেকে ক্রিটিক্যাল রোগীকে চাহিদামতো উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে কী কারণে উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন ফ্লো হচ্ছে না কর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছুই জানাতে পারেনি। ফলে সংকটাপন্ন রোগীর চিকিত্সা ও জীবন বাঁচাতে উচ্চমাত্রার সরবরাহ নিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালে অধিক হারে রোগীর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চিকিত্সকরা জানান, দেরিতে চিকিত্সকের শরণাপন্ন, স্বাস্থ্য জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি, অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল ৩০ থেকে ৫০ নেমে আসা এবং করোনার সঙ্গে অন্যান্য জটিল রোগ থাকায় ক্রিটিক্যাল রোগীর মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারের উচ্চ মহলে চিঠি দেওয়ার পর উচ্চমাত্রার অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করতে কারিগরি একটি দল ঢাকা থেকে আজ বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়া হাসপাতালে আসবে। খাতা-কলমে হাসপাতালে চারটি আইসিইউ বেডের কথা উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে তা কার্যকরী ও জীবন রক্ষাকারী নয়। ফলে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া ক্রিটিক্যাল কিংবা মুমূর্ষু রোগীর জীবন রক্ষায় নেই আইসিইউ সাপোর্ট। ফলে আইসিইউ না থাকায় সংকটাপন্ন রোগীরা মারা যাচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাক্তার দিলদার হোসেন। কুষ্টিয়া ২৫০ শষ্যাবিশিষ্ট জেনারেল হা্সপাতালের (বর্তমান কোভিড ডেডিকেটেড) তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ডা. সালেক মাসুদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, ডা. নাসিমুল বারী বাপ্পি, ডা. আক্রামুজ্জামান মিন্টু, ডা. রেজাউল ইসলাম হিটু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।