সিলেটে টিকার রেজিস্ট্রেশন করেও অনেকে এসএমএস পাচ্ছেন না

সিলেট বিভাগে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মৃত্যুর সংখ্যা এক দিন কমলে পরের দিন আবার বেড়ে যায়। গত সপ্তাহে ২০ জন মৃত্যুর পরে তা নেমে আসছিল সাত জনে। কিন্তু সোমবার আবার মারা গেছে ১৭ জন। মঙ্গলবারও একই সংখ্যক মানুষ মারা গেছে করোনায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সিলেট বিভাগের মানুষের মধ্যে টিকা নেওয়ার আগ্রহ বেশ বেড়েছে। কিন্তু  নগরীতে টিকার জন্য নিবন্ধনের পরও এসএমএস না পেয়ে অনেকেই হতাশ। টিকা কেন্দে  অস্বাভাকি ভিড় কমাতে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে সিসিক।

অনেকেই জানালেন, নিবন্ধনের প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও এসএমএস পাননি তারা। এসএমএস না পেলেও গত কদিন থেকেই সিলেট নগরীর সব কটি টিকা কেন্দে  সড়ক পর্যন্ত লাইন। রোদ বৃষ্টিতে তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। টিকা নিতে কেন্দে  আসা বয়স্করা যারপরনাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সিলেটের একজন নারী উদ্যোক্তা জানান, গত বছর জুলাই মাসে পরিবারের সব সদস্য আক্রান্ত হন। গত মাসে তিনি টিকা নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু নিবন্ধনের এক মাস হয়ে এলেও কোনো এসএমএস পাননি। করোনার প্রকোপ বাড়তে থাকায় সুরক্ষা টিকা পেতে নিবন্ধনকারীর সংখ্যাও বাড়তে শুরু করে। কিন্তু এসএমএস বিড়ম্বনায় পড়েছেন তারা। দীর্ঘ হচ্ছে অপেক্ষমাণ তালিকা।

সূত্র জানায় সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার প্রায় ৭৫ হাজারেরও লোক টিকার জন্য নিবন্ধন করে এখন এসএমের অপেক্ষায়। রেজিস্ট্রেশনের ২০ দিন পার হলেও এখনো অনেকেই কোনো এসএমএস পাননি। একজন বয়োবৃদ্ধ মহিলা জানালেন তিনি ১৮ জুলাই রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু এখানো এসএমএস পাননি। টিকা  পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রায় সবাই উদ্বিগ্ন। তবে  বয়স্ক ও অধিকতর ঝুঁকিতে যারা আছেন, তাদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করা জরুরি।  সূত্র জানায় এসএমএস জটিলতা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনই ঘুরছেন টিকা কেন্দে । তাতেও কোনো লাভ হয়নি।  এই জটিলতার কারণে উচ্চশিক্ষার্থে অনেকেই আবেদন করতে পারছেন না।

যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন টিকা পাবেন: সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, নগরীতে বর্তমানে ৭৫ হাজারেরও বেশি নিবন্ধন রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিনই নতুন করে নিবন্ধন হচ্ছে। তাই এসএমএস ছাড়তে দেরি হচ্ছে। তিনি বলেন, যে হারে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে অনেক বেশি গতিতে নিবন্ধন হচ্ছে।  ডা. জাহিদুল জানান,  সিলেটের টিকাকেন্দ  ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ৩ হাজার জনের বেশি লোককে টিকার আওতায় আনা সম্ভব নয়, স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রশ্নে। এর  মধ্যে নতুন নিবন্ধিত ৬০০ জনকে রাখা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। তারপরও অনেকেই এসএমএস না পেয়ে কেন্দে  যাচ্ছেন তাদেরও আমরা  টিকার ব্যবস্থা করছি। একই সঙ্গে প্রথম দিকে যারা রেজিস্ট্রেশন করে টিকা পাননি তাদেরও টিকার আওতায় আনছি।  তিনি নিবন্ধিতদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা নিবন্ধন করেছেন, তারা সবাই টিকা পাবেন। আগামী ১৩ তারিখ থেকে মডার্নার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া শুরু হচ্ছে জানিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, আমরা চাচ্ছি, সিলেট নগরে নতুন করে আরো কিছু কেন্দ  বাড়াতে। এজন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।