‘আবেগ-অনুভূতি এখন বাণিজ্যিক হয়ে গেছে’

এদেশে খুব কম শিল্পীই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে এতটা বছর একটানা সময় পেয়েছেন। স্টেজ, অডিও বা ভিজ্যুয়াল বাজারে একটানা প্রায় দেড়যুগ শীর্ষে থাকা শিল্পীর নাম আসিফ আকবর। ক্যারিয়ারের সফলতায় অডিও গানের ‘যুবরাজ’ বলেন তাকে তার ভক্তরা। বর্তমান গানসহ ইন্ডাস্ট্রির সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বললেন ইত্তেফাকের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন

এ এম রুবেল

নতুন গানের কাজ নিয়ে জানতে চাই—

দেশে তো সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ডিং আমিই করি। করোনাকালেও নিয়মিত গানের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করেছি। লকডাউন শেষে আজ (গতকাল) থেকে আবার রেকডিং শুরু করছি। বেশ কয়েকটি গানের কাজ হাতে রয়েছে। পাশাপাশি এরইমধ্যে তরুণ মুন্সি, ইমরান, মিলনসহ বেশ কয়েকজনের কথা-সুরে গান গাইলাম। যেগুলো শিগগিরই বিভিন্ন লেভেল কোম্পানির ব্যানারে রিলিজ পাবে।

গানে মিউজিক ভিডিওর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু আছে বলে মনে করেন?

বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় হলে বিপদ! একটি গান তৈরিতে যে খরচ হয় তার চেয়ে ৩-৪ গুণ বেশি খরচ হয় মিউজিক ভিডিওতে। কিন্তু সেই টাকা দিয়ে যদি আরা আরো ৩-৪টা গান করি, তবে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। সময়ের চাহিদায় লিরিক্যাল বা স্টুডিও ভিডিও করা যেতেই পারে, কিন্তু বেশি টাকা খরচ করে মিউজিক ভিডিও করা অনুচিত। এতে ইন্ডাস্ট্রিরই ক্ষতি হচ্ছে।

একটি গান তৈরি করতে মিউজিক ভিডিওসহ অন্যান্য খাতে যে খরচ হয় সেটা ডিজিটাল রেভিনিউ থেকে কতটা উঠে আসছে?

মিউজিক ভিডিও থেকে টাকা ওঠানো এখন অসম্ভব। দু-একটি গান ছাড়া বেশিরভাগ গানে লগ্নিকৃত টাকা উঠে আসছে না। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি তো এত বড় নয় যে, টাকা আবার ফেরত আসবে। তাছাড়া আমাদের আবেগ-অনুভূতি এখন বাণিজ্যিক হয়ে গেছে।

আমাদের দেশের অডিও অ্যাপগুলো অবস্থান তৈরি করতে না পারার কারণ কী বলে মনে করেন?

আমাদের বাংলাফ্লিক্স, গ্রামীণ ফোনের অ্যাপসহ বেশকিছু অ্যাপ ছিল। কিন্তু আমাদের টেলিকম নিয়ন্ত্রণ সংস্থা মাঝে মাঝেই সিদ্ধান্ত বদলায়। ইন্ডাস্ট্রির ভালো হবে এমন কোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারেনি। ফলে অ্যাপস আসে, আবার বন্ধ হয়ে যায়। এতে টেকনিক্যাল মানুষগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং মানুষকে বোঝানোও কঠিন হয়ে পড়ে। এর জন্য পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।

আপনার সংগীত যাত্রার শুরুতে অসংখ্য জনপ্রিয় গানের পাশাপাশি একাধিক স্টার তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখন সেই ধারাবাহিকতা নেই কেন?

স্টারের বিষয়টি আপেক্ষিক। কখন, কোন মাধ্যমে কোন স্টার বের হবে সেটা বলা যাবে না। অন্যদিকে গানের বিপণন ব্যবস্থা আসলে আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। আমাদের সঙ্গে চুক্তি করা হলেও সুষ্ঠু নীতিমালা না থাকায় বিভ্রান্ত হতে হচ্ছে। তাছাড়া প্রফেশনাল শিল্পীরা দূরে সরে আছেন। যতদিন পর্যন্ত সিনিয়র-জুনিয়র, গীতকার-সুরকার এক না হবে ততদিন গান সেই আবেদন তৈরি বা প্রভাব ফেলতে পারবে না।

এখন অনেক কাব্য মূল্যহীন গানও ভাইরাল বনে যাচ্ছে। এটা আপনাদের লজ্জার কারণ হয় কি-না!

উন্মুক্ত মাধ্যমে যে যার মতো কাজ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে ভাইরাল তো কখনো স্থায়ী হয় না। আমাদের খারাপ একটি অভ্যাস হলো বাজে একটি জিনিস ভাইরাল করে ফেলি। তাই এগুলো নিয়ে ভাবি না। কারণ ভাইরাল নয়, ভালো কাজটিই টিকে থাকবে।

নতুনদের নিয়ে নানা কটুকথা প্রচলিত আছে। আপনি তো নতুন অনেকের সঙ্গে কাজ করছেন। অভিজ্ঞতা কেমন?

আমিও শুরুতে এ ধরনের প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই পথ চলেছি। এক ধরনের সিরিয়র নতুনদের উত্থান পছন্দ করেন না। তারা জুনিয়রদের বেয়াদব বানিয়ে ফেলেন, আবার অনেক জুনিয়র বেয়াদবি দিয়েই শুরু করে। আর আমি যেহেতু শুরুতে বঞ্চিত ছিলাম তাই তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম নতুনদের সুযোগ দেবো। এতে জেনারেশন গ্যাপ কমে যাবে।

শিল্পীদের এককভাবে গান রিলিজের বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?

এটা নিঃসন্দেহে ভালো। লেভেল কোম্পানিতে তো স্বত্ব লিখে দিয়ে গান করতে হয়। এতে শিল্পীর কী থাকলো? আমি মনে করি, প্রত্যেক শিল্পীর নিজের জন্য, নিজের চ্যানেলের জন্য গান করা উচিত। এতে আমি না থাকলেও আমার সৃষ্টি থাকবে এবং আমার পরিবারন সেখান থেকে সাপোর্ট পাবে।