বগুড়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের স্পারে ফের ধস

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

চার দিন না যেতেই বগুড়ার ধুনটের ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের যমুনা নদীর বানিয়াজান স্পারে আবারও ধস নেমেছে। সোমবার রাত ১০টার দিকে মেরামত স্থানে আবারও ৪০ মিটার অংশ ধসে পড়ায় স্পারের সঙ্গে স্ট্রাকচার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৩ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী ভাঙনরোধে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বানিয়াজান গ্রামের কাছে নদীর আড়াআড়িভাবে একটি স্পার নির্মাণ করে। এরপর নদীর পানি অনেক দূর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ছিল ঝুঁকিমুক্ত। এ অবস্থায় গত ৫ আগস্ট সকালে ঐ স্পারের মাথা ও স্ট্রাকচারের মধ্যখানে প্রায় ৩০ মিটার অংশ ধসে যায়। ঘটনার পর থেকে ধসে পড়া স্থানে বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে মেরামতের কাজ চলছে। কাজ শেষ না হতেই ঐ স্থানে সোমবার রাতে আবারও স্পারের ৪০ মিটার অংশ ধসে স্ট্রাকচার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। খবর পেয়ে বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ড ধসে পড়া স্থানে পুনরায় মেরামতের কাজ শুরু করেছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু হয়েছে। স্পারের দুই পাশে স্লোপ করে জিও চট বিছানো ও তার ওপর দিয়ে ইট, সিমেন্টের তৈরি বোল্ডার বসানো হয়েছে। ভান্ডারবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুল করিম বলেন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ রক্ষার স্পারে ধস দেখা দেওয়ায় স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ধসে পড়া স্থান দ্রুত মেরামত না করা হলে পানির প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে সম্পূর্ণ অংশই নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাউবো কর্মকর্তাদের জরুরিভাবে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আসাদুল হক বলেন, যমুনা নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় পানির স্রোতের ধাক্কা স্পারে আঘাত করছে। ফলে স্পারের গোড়া থেকে মাটি সরে গিয়ে ধস দেখা দিয়েছে। ধসে পড়া স্থানে মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে।