বদলগাছীতে বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বাল্যবিবাহ

হাফিজার রহমান, বদলগাছী (নওগাঁ) সংবাদদাতা

বদলগাছীতে জন্মসনদে বয়স বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বাল্যবিবাহ। অভিভাবকদের কারণে এসব বিয়ে হচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিমতে জানা যায়। গত কয়েক দিন আগে উপজেলার কোলা ইউপির আক্কেলপুর সুতাহাটি গ্রামের নাসিরের ৮ম শ্রেণির মেয়ের সঙ্গে কেশাইল গ্রামের মিন্টুর ছেলে ১০ম শ্রেণির ছাত্র মারুফ হোসেনের বিয়ে হয়।

এ বিষয়ে কোলা ইউপি চেয়ারম্যান সাহিনুর ইসলাম (স্বপন) বলেন, আমার জানা মতে, মেয়েটি ছেলের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন করে। সেজন্যই বিয়ে হয়। সচেতন মহল দায়ী করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কারণে তারা ভুয়া জন্মসনদে বয়স বাড়িয়ে দিয়ে সহায়তা করছেন। আর এই সনদকে বড় প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগিয়ে অল্প বয়সের মেয়েদের বিয়ের পিঁড়িতে বসাচ্ছেন। বদলগাছী উপজেলা ব্র্যাক সামাজিক ক্ষমতায়ন কর্মকর্তা মোমুনিল ইসলাম বলেন, এক দিকে অভিভাবকদের অসচেতনতা অন্যদিকে ভুয়া সনদে বিবাহবন্ধনে জড়িয়ে পড়ছে। বিয়ের কিছুদিন পর বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে ব্র্যাক মানবধিকার কর্মসূচির বদলগাছী উপজেলা কর্মকর্তা রুপা আকতার বলেন, কয়েক মাসে ৩০টি দাখিল হওয়া মামলা তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, কাজী অফিসে বেশির ভাগ বিয়ের কাবিননামা পাওয়া যায়নি। যার কারণে মামলা নিষ্পত্তি করতে জটিলতায় পড়তে হয়। একটি অষ্টম বা নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রীর ১১ থেকে ১৪ বছর বয়স হয়। সেখানে অনেক সময় চেয়ারম্যান কর্তৃক জন্মসনদে দেখা যায়, ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়স করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দিনদিন বাল্যবিবাহ এবং স্বামী পরিত্যক্তের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কানিস ফারহানা বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের জরায়ুসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তাছাড়া অল্প বয়সে মা হতে গেলে মা ও বাচ্চার দুজনেরই মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে বেশি। বদলগাছী সদর ইউনিয়নের কাজী মনজের আলী বলেন, আমরা জন্মসনদে বয়স দেখে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করি।

বদলগাছী সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মণ্ডল বলেন, বাল্যবিবাহ দিনদিন বেড়েই চলেছে। তবে আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স অনুপাতে জন্মসনদ দেওয়া হয়। গ্রামের কিছু মৌলভিরা রেজিস্ট্রি ছাড়া বিয়ে পড়িয়ে দিচ্ছেন। বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলপনা ইয়াসমিন বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে একটি কমিটি রয়েছে। তাদের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ ও জরিমানা করা হয়েছে। তাছাড়া আটটি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও কাজীদের নিয়ে আলোচনা করে নিষেধ করা হয়েছে যেন কোনোভাবেই বাল্যবিবাহ না হয়। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সামসুল আলম খান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান যদি বয়স যাচাই করে সনদ দেন, তাহলে বাল্যবিবাহ কিছুটা রোধ করা সম্ভব।