তরুণদের আগ্রহী করতে কৃষিকে মর্যাদা দিতে হবে

কৃষিতে যুবকদের আগ্রহী করে তোলার জন্য কৃষিকে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে মর্যাদা দিতে হবে এবং কৃষি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। এক্ষেত্রে অঞ্চলভিত্তিক কৃষি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষ্যে গতকাল বুধবার ‘খাদ্য ব্যবস্থার রূপান্তর ও তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা’ শীর্ষক অনলাইন নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। বারসিক ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে। উল্লেখ্য আজ আন্তর্জাতিক যুব দিবস।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সোবহান বলেন, কৃষিতে তরুণদের আগ্রহ তৈরির জন্য কৃষিকে প্রথমেই পারিবারিকভাবে মর্যাদা দিতে হবে। কৃষিকে আমরা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে মর্যাদা দিই না। কৃষক পরিবারের সন্তানরা কখনো চান না তার সন্তান কৃষক হোক। তাই কৃষিকে মর্যাদা দেওয়ার কাজ পরিবার থেকে শুরু করতে হবে। আমাদের সবার কল্যাণে কৃষির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তরুণদের কাছে তুলে ধরতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, খাদ্যব্যবস্থার রূপান্তরে যুবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর জন্য কৃষিকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবেও মর্যাদা দিতে হবে এবং কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করতে হবে।

পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান বলেন, কৃষিতে যুবকদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। কৃষিকে লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে কৃষকের জন্য পেনশন স্কিম চালু করতে হবে যাতে তরুণরা এই খাতকে সম্মান করে। এছাড়া শুধু খাদ্য উত্পাদনের দিকে নয় বরং কীভাবে নিরাপদ খাদ্য উত্পাদন করা যায় সে দিকেও নজর দিতে হবে। এক্ষেত্রে তরুণরা এগিয়ে আসতে পারে। নিরাপদ খাদ্য উত্পাদনের জন্য তাদেরকে নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা করতে হবে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের হেড শরীফুল হাসান বলেন, আমাদের দেশের অর্থনীতি প্রবাসী আয়, কৃষি এবং পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এ তিনটি খাত না থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি অচল হবে। এ তিনটি খাতের মধ্যে কৃষি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ উর্বর দেশ। এখানে সার বিষ ছাড়াও ফসল উত্পাদন করা যায়। লেবাননসহ অন্যান্য দেশে খাদ্যের দাম অনেক বেশি অথচ আমাদের দেশে আমরা এখনো সুলভমূল্যে খাদ্য পাচ্ছি। তাই কৃষি ও কৃষকদের মর্যাদা দিতে হবে।

রাজশাহীর তরুণ শেখ তাসনিম জামাল বলেন, নিরাপদ খাদ্য উত্পাদনে বরেন্দ্র অঞ্চলের তরুণরা নানাভাবে জড়িত। পতিত জমি ও ছাদে তারা কৃষিকাজ করেন। তবে কৃষিতে কৃষকের স্বীকৃতি না থাকায় তরুণরা কৃষিতে আগ্রহী হয় না। এছাড়া কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না থাকার কারণেও তরুণরা কৃষিতে অনাগ্রহী। তাই কৃষি শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা এবং অঞ্চলভিত্তিক কৃষি শিক্ষার দিকে নজর দিতে হবে।

সংলাপে পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন, পবার সম্পাদক মেসবাহ সুমন, অভিনয় শিল্পী সুমনা সোমা, সাংবাদিক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জ্বল, অর্গানিক বাংলার হুমায়ুন কবির, নেত্রকোনার অগ্রযাত্রা কিশোরী সংগঠনের সভাপতি দিপালী আক্তার, দেলোয়ার জাহান, সাংবাদিক ইফতিখার আলম, দিপালী আক্তার, রাজশাহী আদিবাসী নেত্রী সাবিত্রী হেমব্রম, সাতক্ষীরার তরুণ নারী উদ্যোক্তা শিরীন সীমা, অনলাইন নিরাপদ খাদ্য সংগঠক ‘মিনার ক্ষেত’র তাহমিনা আহমেদ প্রমুখ।