সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউন প্রত্যাহারের পর গতকাল বুধবার থেকে দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতে স্বাভাবিক বিচারকাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে হাইকোর্টের সব বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চলেছে। এসব দ্বৈত ও একক বেঞ্চে ফৌজদারি, দেওয়ানি ও রিট মোশনের পাশাপাশি ডেথ রেফারেন্স ও আপিল মামলার শুনানি হচ্ছে। আর অধস্তন আদালতে বিচারকাজ চলছে শারীরিক উপস্থিতিতে। শারীরিক উপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরু হলেও অনুসরণ করা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। এর মধ্যে যেসব মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ ও রায়ের জন্য দিন ধার্য ছিল কিন্তু ধার্যকৃত তারিখ পেরিয়ে গেছে, সেসব মামলায় নতুন করে দিন ধার্য করে দিচ্ছেন আদালত ও ট্রাইবব্যুনালের বিচারকরা।
ইতিমধ্যে সব ধরনের জামিন শুনানি, আত্মসমর্পণপূর্বক জামিন আবেদন, ফৌজদারি মামলার ফাইলিং, সাকসেশন ও অভিভাবকত্ব নির্ধারণী মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আইনজীবী ও আদালত-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী ১৬ আগস্ট থেকে সব ধরনের মামলার বিচারকাজ শুরু হবে পুরোদমে।
এদিকে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের সব অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মোকদ্দমা/মামলায় বিচারক প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শারীরিক উপস্থিতিতে অথবা “আদালত কর্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০” এবং এই কোর্ট কর্তৃক জারিকৃত এতদসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণপূর্বক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়ালি উপস্থিতির মাধ্যমে সকল প্রকার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে, বিচারক প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক শারীরিক উপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন।
এদিকে গতকাল থেকে হাইকোর্টের সব বেঞ্চে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে হাইকোর্ট বিভাগের ৫৩ বেঞ্চে এ বিচারকাজ শুরু হয়। তবে ৮ আগস্ট থেকেই আপিল বিভাগে ভার্চুয়ালি বিচারকাজ চলছে। এ সময় হাইকোর্টের ১২টি বেঞ্চে বিচারকাজ চলে। পরে সব বেঞ্চকে বিচারকাজ পরিচালনার এক্তিয়ার দেন প্রধান বিচারপতি।