ফুটবলে এই দুনিয়ায় তার মতো আরেক জন খেলোয়াড় পাওয়া যাবে না। লিওনেল মেসি। যার দলবদল নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে হইচই পড়ে গেল। বার্সেলোনার লাখ লাখ সমর্থক চোখের পানি ফেলেছেন। কেঁদেছেন মেসি নিজেও। ১০ নম্বর জার্সি গায়ে ২০০৮ সাল থেকে খেলে আসছিলেন মেসি। তাকে নিয়ে আলোচনার ফাঁকে সংক্ষিপ্ত নামে ডাকা হতো এলএমটেন (লিওনেল মেসি জার্সি নম্বর টেন)। বার্সার সঙ্গে ২১ বছরের সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ায় মেসিকেও আর এলএমটেন বলবেন না কেউ। দুই বছরের জন্য ফরাসি দল প্যারিসের পিএসজিতে যোগ দিয়েছেন। সেখানে নতুন জার্সি নম্বর পেয়েছেন মেসি। বন্ধু নেইমার পিএসজিতে ১০ নম্বর জার্সি গায়ে খেলছেন। নেইমার তার জার্সি নম্বরটি দিতে চেয়েছিলেন মেসিকে। মেসি সেটি গ্রহণ করেননি। বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়েছেন। মেসি ভক্তদের ভাবনা ছিল ১০ নম্বর জার্সিটি কার গায়ে থাকবে। মেসি ৩০ নম্বর জার্সি তুলে নিয়েছেন। ২০০৪ সালে মেসি প্রথমবার মাঠে নেমেছিলেন বার্সেলোনার ৩০ নম্বর জার্সি গায়ে। পরে ১৯ নম্বর জার্সি গায়ে জড়িয়েছিলেন। ৩০ নম্বর জার্সিটি নেওয়ার মূল কারণ হচ্ছে এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম জার্সি ছিল। মেসি ৩০ নম্বর জার্সি গায়ে পিএসজির মাঠে নেমে বল নিয়ে কারিকুরি করেছেন। ফটোসেশন করেছেন।
ফ্রেঞ্চ লিগের জন্য মেসির জার্সি নম্বর অনুমোদন করিয়ে নিতে হয়েছে। কারন ১, ১৬ এবং ৩০ নম্বরটি গোলকিপারদের জন্য সংরক্ষিত। মেসি কবে মাঠে নামবেন এটা নিয়েও মেসি ভক্ত, পিএসজির ভক্তরা উদগ্রীব। ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ান এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে। পিএসজির ম্যাচও হয়ে গেছে। শনিবার স্ট্রসবাগের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ। সেই ম্যাচেও মেসি নামবেন না সেটা প্রায় নিশ্চিত। কারণ মেসি নিজেই জানিয়েছেন ছুটিতে ছিলেন, প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে চান। ২৯ আগস্ট ম্যাচ আছে রেইমসের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে নামবেন কি না, এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে সবশেষ কথা হচ্ছে মেসি কখন মাঠে নামছেন, প্রথম ম্যাচ কেমন খেলবেন তা দেখার জন্য অপেক্ষায় আছে ফুটবল দুনিয়া।
নেইমার, এমবাপ্পে এবং মেসির শক্তি ফুটবল দুনিয়ায় সবচেয়ে শক্তিশালী আক্রমণভাগ। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য পিএসজি অর্থ ভাণ্ডার খুলে দিয়ে দুনিয়ার সব সেরা খেলোয়াড়দের নিয়েছে। এত শক্তিশালী দল গড়েও যদি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে না পারে তাহলে কোচ পচেত্তিনো প্রশ্নে মুখোমুখি হবেন সেটা নিশ্চিত।
রোনালদিনহো ২০০১ সালে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পরের বছর ব্রাজিল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ২০১৭ সালে এমবাপ্পে পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর ফ্রান্স জিতেছিল রাশিয়া বিশ্বকাপ ফুটবল। দেখা যাক মেসির ভাগ্যে কি আছে।