করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকাকালীন সেশন চার্জসহ অন্যান্য ফি মওকুফ করার দাবিতে গতকাল বুধবার বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেন বরিশাল বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভিন্ন বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের কয়েক শ শিক্ষার্থী কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলকারীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহিদ মিনার গেট-সংলগ্ন বিএম কলেজ সড়কে বসে পড়েন। এ সময় তাদের দাবির পক্ষে নানা স্লোগান দেন। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, করোনায় অনেকের বাবা-ভাই চাকরি হারিয়েছেন। অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে। এ অবস্থায় অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পূরণে ৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা করোনাকালে শিক্ষার্থীদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষা সফর, সেশন চার্জ, ছাত্র সংসদ, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, ছাত্র পরিবহন, লাইব্রেরি ফিসহ ২৮টি খাতে অযৌক্তিক ফি ধরা হয়েছে। তারা অযৌক্তিক এসব ফি মওকুফের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান। দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কলেজের অধ্যক্ষ এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে ৬০০ টাকা মওকুফের ঘোষণা দিলে আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।
এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে কলেজের শতবর্ষী গেটের সামনে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীরা বাসায় ফেরার সময় তাদের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিজন সিকদার, আসাদুজ্জামানসহ তিন শিক্ষার্থী আহত হন। হামলার শিকার হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র বিজন সিকদার বলেন, আন্দোলন প্রত্যাহার করার পর আড়াইটার দিকে কলেজের ফার্স্ট গেট (শতবর্ষী গেট) থেকে বের হওয়ার সময় ছাত্রলীগ পরিচয়ধারী ২০-২৫ জন তাদের ওপর হামলা চালায়। শিক্ষার্থীদের ওপর এই হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখা।