দীর্ঘ ৩০ বছর পর সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত চার আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে। ঐ আদালতে ইতিমধ্যে মামলার বাদী সগিরা মোর্শেদের স্বামী আব্দুস সালামের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। চলছিল জেরা। এ অবস্থায় মামলাটির বিচার দ্রুত সম্পন্নের জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এ। এখন এই ট্রাইব্যুনালে মামলার বিচারকাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলা পাঠানোর বিষয়টি ইত্তেফাককে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোসংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশসংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই মামলার নথি ঐ ট্রাইব্যুনালে পৌঁছে যাবে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২ ডিসেম্বর এ হত্যা মামলার চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত। আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়, তারা হলেন—নিহত সগিরা মোর্শেদের ভাশুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭০) ও তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন (৬৪), শাহিনের ভাই আনাস মাহমুদ রেজওয়ান (৫৯) ও মারুফ রেজা (৫৯)। এর মধ্যে প্রথম তিন জনের পরিকল্পনায় কাছ থেকে গুলি করে সগিরা মোর্শেদকে খুন করেন মারুফ রেজা। যা মামলার অভিযোগপত্রে উঠে এসেছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই সগিরা মোর্শেদ ভিকারুননিসা নূন স্কুল থেকে মেয়েকে আনতে গিয়ে খুন হন। পরে মিন্টু নামে এক আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ডিবি পুলিশ। হাইকোর্টের আদেশে ২৮ বছর মামলার বিচারকাজ বন্ধ ছিল। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঐ স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয় হাইকোর্ট। নতুন তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। ঐ তদন্তে সগিরা মোর্শেদের ভাশুর ডা. হাসান আলী চৌধুরী (৭০), তার স্ত্রী সায়েদাতুল মাহমুদা ওরফে শাহিন (৬৪), শাহিনের ভাই আনাছ মাহমুদ রেজওয়ান (৫৯) ও মারুফ রেজাকে (৫৯) অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পিবিআই। এতে দেখা যায়, স্বজনদের পরিকল্পনাতেই খুনের শিকার হন ঐ নারী।