রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ পদে নারী নেতৃত্ব রাখার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেই শর্ত পূরণে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০২০ সালের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি পূরণের কথা ছিল। কিন্তু অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই নারী নেতৃত্বের শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো পৃথকভাবে সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের শেষ দিন পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করেছে রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব রওশন আরা ইত্তেফাককে জানান, করোনা পরিস্থিতি অবনতির কারণে দলগুলোকে নারী পদ পূরণের অগ্রগতি জানানোর সময় আরো বাড়ানো হয়েছে। এক্ষেত্রে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে কমিশন।
২০২০ সালের মধ্যে দলের সব পর্যায়ে কমিটিতে নারী নেতৃত্ব ৩৩ শতাংশ করাসহ বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০৮ সালে ইসির নিবন্ধন পায় রাজনৈতিক দলগুলো। সেই সময়সীমা চলে গেলেও হাতে গোনা দু-একটি দল ছাড়া কেউ-ই ২০ শতাংশেরও বেশি নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে পারেনি। এ অবস্থায় কমিশন রাজনৈতিক দল থেকে মতামত নিয়ে আরপিও সংশোধন করার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল। আইনটি কয়েক দফা চালাচালি করে সম্প্রতি সংসদে পাশ হয়েছে। তবে সংশোধিত আরপিওতে সময় বাড়ানো হয়নি। বরং এতে বলা আছে, কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সকল পর্যায়ের কমিটিতে ন্যূনতম শতকরা ৩৩ ভাগ সদস্যপদ নারী সদস্যদের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত থাকবে এবং এই লক্ষ্যমাত্রা ২০২০ সালের মধ্যে অর্জন করতে হবে।
গত জুলাই মাসের শেষ দিকে ইসি থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব বরাবর নারী পদ পূরণের অগ্রগতি ও শর্ত পূরণের তাগাদা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়। ইসির চিঠি পেয়ে দলগুলো নারী পদ পূরণের জন্য কাজ করছে বলে জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, ইসিতে পাঠানো গত বছরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একমাত্র নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল গণফ্রন্ট তাদের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধি রেখেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ২৪ শতাংশের কম নারী রয়েছে। বিএনপির সকল পর্যায়ের কমিটিতে ১৫ শতাংশ নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাপায় নারী নেতৃত্ব ২০ শতাংশ। জাতীয় পার্টি-জেপিতে নারী নেতৃত্ব ১৬ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য দলের মধ্যে সিপিবিতে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ ও জাসদে ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রয়েছে। এছাড়া এনপিপির ২০ শতাংশ, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ৬, গণতন্ত্রী পার্টিতে ১৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টে ১ শতাংশ নারী নেতৃত্ব রয়েছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলিডিপির) কমিটিতে নারী আছে ২২ শতাংশ।