করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় দেশে দীর্ঘদিন ধরে দফায় দফায় চলছিলো বিধিনিষেধ। সর্বশেষ একটানা ১৯ দিন বিধিনিষেধের পর বুধবার (১১ আগস্ট) থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে অর্ধেক সংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
তবে সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকায় যেমন গাড়ির সংকট দেখা দিয়েছে, তেমনি রাজধানী ঢাকায় আজ বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সকাল থেকে প্রতিটি পয়েন্টে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। ফলে দুর্ভোগ এড়িয়ে চলতে হয়েছে অফিসগামী নগরবাসীদের।
বাড্ডা, রামপুরা, মালিবাগ, কাওরান বাজার, মহাখালী, ফার্মগেট ও শাহবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই গণপরিবহনের সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন অফিসগামী এবং কাজে বের হওয়া মানুষরা। সঙ্গে তীব্র যানজটের মুখোমুখি হতে হয়েছে যাত্রীদেরকে।
ছবি: ইত্তেফাক
ফার্মগেটে গাড়ির জন্য অপেক্ষারত বেসরকারি চাকরিজীবী সাজিদুর রহমান বলেন, ‘সব গাড়ি চললেও গাড়িতে উঠতে অনেক কষ্ট হয়। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে তারপর গাড়ি মিলে। আর এখন তো অর্ধেক গাড়ি সড়কে সংকট তো হবেই। বাসগুলো আগে থেকেই আসন পরিপূর্ণ হয়ে গেট লাগিয়ে আসছে। ফলে মাঝপথের মানুষ বাসে উঠতে পারছে না।’
শুধু তাই নয় গণপরিবহনের সংকট হলেও অন্য সব ধরনের বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ রয়েছে সড়কে। মোটরসাইকেল, সিএনজি, রিকশার দখলে ছিলো চারদিক। ফলে সকাল থেকে সড়কে যানজট দেখা গিয়েছে।
এছাড়া যাদের অফিস একটু নিকটে তাদের অনেকেই পায়ে হেঁটে অফিসে যেতে দেখা গিয়েছে। এমনই একজন শাকিল আহম্মেদ দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে গাড়ি না পেয়ে হেঁটেই বাংলামোটর অফিসের দিকে রওয়ানা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম ততক্ষণে অফিসে চলে যেতাম। তাই আর অপেক্ষা করছি না হেঁটেই অফিসে যাচ্ছি।’
ছবি: ইত্তেফাক
আগামী ১৯ আগস্ট থেকে রাস্তায় শতভাগ গণপরিবহন চলাচল করার অনুমতি দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সড়ক, রেল ও নৌপথে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল করতে পারবে।
দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা রমনা ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রেফাতুল ইসলাম দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘সব কিছু খুলে দেওয়ায় সড়কে গাড়ির সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে মানুষের চলাচলাও। তাই আজ সকাল থেকেই সড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত গাড়িগুলোকে শৃঙ্খলায় নিয়ে আসার। মানুষের চলাচল বাড়ায় দুই একদিন একটু যানজট হবে।’
ইত্তেফাক/কেএইচ/এমইউএ/এএএম