পঞ্চগড়ে বেশি দামে সার বিক্রি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষক। কোথাও কোথাও জমাট বাঁধা সার বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে। কৃষকরা জানান, আমন ধান রোপণে জমিতে কমপক্ষে চার বার সার প্রয়োগ করতে হয়। সরকার প্রতি বস্তা টিএসপি ১ হাজার ১০০, ইউরিয়া ৮০০, ডিএপি ৮০০ ও এমওপি ৭৫০ টাকা নির্ধারণ করলেও এ দামে সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। শহরতলির হাটবাজারে প্রতি বস্তা টিএসপি ১ হাজার ৫০০ টাকা, ইউরিয়া ১ হাজার টাকা, পটাশ ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের কোথাও কোথাও সারের দাম এর চেয়েও বেশি।
জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বুড়াবুড়ি হারাদীঘি এলাকার কৃষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে শালবাহান হাই স্কুল মাঠে সারের স্লিপের জন্য অপেক্ষা করেও না পেয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি। বেশি দামে সার কিনলে পাওয়া যায়, আর সরকারি নির্ধারিত দামে সার কিনলে ডিলার ও ব্যবসায়ীরা বলেন সার নেই। তেঁতুলিয়া উপজেলার তীরনইহাট ইউনিয়নের ঠুনঠুনিয়াপাড়া গ্রামের কৃষক মজনু মিয়া জানান, ডিলার পাইকার খুচরা দোকানদার কেউই সার দিচ্ছে না। তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের গিতালগছ গ্রামের হাচেন আলী জানান, এক দিকে পানির অভাব, অন্যদিকে সার সংকট। শালবাহানহাট ইউনিয়নের সোলায়মান আলী জানান, কোথাও সার পাচ্ছি না। সার না দিলে জমিতে ধান উত্পাদন কমে যাবে। সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের মো. নুরুজ্জামান জানান, সারের সংকট দেখিয়ে খুচরা সার বিক্রেতা ও ডিলাররা বস্তাপ্রতি ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন।
তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহানহাট ইউনিয়নের খুচরা সার বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম জানান, একসঙ্গে ৫০০-৭০০ লোক সারের জন্য দোকানে ভিড় করছেন। আমার একার পক্ষে এত কৃষককে সার দেওয়া সম্ভব না। সদর উপজেলার শিকারপুর এলাকার খুচরা সার বিক্রেতা আনছারুল ইসলাম জানান, ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনে আনতে হচ্ছে। ওরা মেমো করছে এক রকম দাম ধরছেন আরেক রকম। এ কারণে আমাদেরকেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের বুড়িরবান এলাকার খুচরা সার ব্যবসায়ী মনিরঞ্জন রায় জানান, আমরা ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো সার পাচ্ছি না। ডিলাররা আমাদেরকে নষ্ট ও জমাট বাঁধা সার চাপিয়ে দিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন পঞ্চগড় জেলা কমিটির পরিচালক মো. আব্দুল হান্নান শেখ সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সারের কোনো সংকট নেই, অতিরিক্ত দামেও সার বিক্রি হচ্ছে না। ডিলারদের কোনো সিন্ডিকেট নেই। তিনি আরো বলেন, আমরা সরকারের কাছে সারের অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছি। সেটাও পেয়েছি। আর সংকট থাকবে না। পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, পঞ্চগড়ে সার সংকট বা কৃষকরা সার পাচ্ছেন না এমনটি শুনেছি। তবে জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ পেলে ডিলারশিপ বাতিলসহ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো জানান, পঞ্চগড়ের বাফার গুদাম এখনো চালু হয়নি। এটি চালু হলে আর কোনো সমস্যাই থাকবে না।