তালেবানকে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকার। এই প্রস্তাবের খবর এমন সময়ে এলো, যখন তালেবান দেশটির কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গজনি শহর দখল করে নিয়েছে। এক সপ্তাহেরও কম সময়ে দশম প্রাদেশিক রাজধানীর পতন ঘটল। খবর বিবিসি ও আলজাজিরার
ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব
আফগান সরকারের একটি শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, কাতারের মাধ্যমে তালেবানকে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কাতারেই তালেবানের রাজনৈতিক অফিস। সেখান থেকে তালেবান তার কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। আফগানিস্তান শান্তি আলোচনায় কাতারই ভূমিকা রেখেছে। কাবুল সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। হাই কাউন্সিল ফর ন্যাশনাল রিকনসিয়েলেশনের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে শান্তি আলোচনা করছেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, কাতারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা চলছে। তবে তালেবানকে দেওয়া প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
গজনিও দখলে তালেবানের
গজনি শহরটি গুরুত্বপূর্ণ কাবুল আর কান্দাহার মহাসড়কের ওপরে। দক্ষিণে তালেবানের শক্ত ঘাঁটির সঙ্গে রাজধানী কাবুলের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক এটি। ধারণা করা হচ্ছে, গজনির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ফলে তালেবানের শেষ পর্যন্ত খোদ কাবুল দখলের সম্ভাবনা বাড়ল। আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রাদেশিক রাজধানীর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। ২০ বছরের সামরিক অভিযান শেষে আমেরিকান এবং অন্যান্য বিদেশি সৈন্যদের আফগানিস্তান ত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে তালেবান যোদ্ধারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। প্রতিদিন তারা নতুন নতুন শহরের দখল নিচ্ছে। গজনির প্রাদেশিক পরিষদের একজন সদস্য বলেছেন, তালেবান শহরের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে শুধু গজনি শহরের উপকণ্ঠে একটি মাত্র পুলিশ চৌকি।
বুধবার কান্দাহার শহর থেকেও তুমুল লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। তালেবান দাবি করেছে, তারা শহরের কারাগারের দখল নিয়েছে, যদিও এ খবর নিশ্চত করা যায়নি। দক্ষিণে হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহ্ শহরে তালেবান পুলিশ সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। বুধবার আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গানি উত্তরের মাজার-ই-শরিফে যান প্রথাগতভাবে তালেবানবিরোধী এলাকাটি থেকে সরকারি বাহিনীর পক্ষে সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টায়। প্রেসিডেন্ট গানি মাজার-ই-শরিফে উজবেক সম্প্রদায়ের যোদ্ধা দলের নেতা আবদুল রশীদ দোস্তাম এবং তাজিক সম্প্রদায়ের নেতা আতা মোহাম্মদ নূরের সঙ্গে শহরটির প্রতিরক্ষা নিয়ে বৈঠক করেছেন।