প্রভাবশালীদের নির্দেশে দুই মাস ধরে ‘একঘরে’ এক দম্পতি

স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার এক পর্যায়ে আয়নাল হক তার স্ত্রী জমিরন নেছাকে তালাক দিয়েছিলেন। পরে ভুল বুঝতে পেরে সমাজের চাপে আবার কাজী অফিসে গিয়ে স্ত্রীকে বিয়ে করে সংসার করছেন। কিন্তু সমাজের প্রভাবশালীরা এ অপরাধে তাদের গত দুই মাস ধরে ‘একঘরে’ (সামাজিকভাবে বয়কট) করে রেখেছেন। তাদের সঙ্গে কাউকে কথা বলতে দিচ্ছেন না, তাদের বাড়িতেও যেতে দিচ্ছেন না। এমনকি আত্মীয়স্বজন কারো সঙ্গেই যোগাযোগ করতে দিচ্ছেন না।

কথিত ‘হিল্লা বিয়ে’ দিয়ে পরে তাদের সংসার করতে হবে বলে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কেউ ঐ পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাদেরকেও ‘একঘরে’ করা হবে এবং ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ছলিমনগর গ্রামে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার ভুক্তভোগী জমিরন নেছা দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ১০ সমাজপতির নামে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সুন্দরদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য লক্ষ্মণ চন্দ্র রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তাদের ‘একঘরে’ (বয়কট) করে রাখা হয়েছে। স্থানীয় ছলিমনগর জামে মসজিদের সভাপতি নাসিরউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর ইসলাম জানান, মসজিদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সমাজের লোকজনদের উপস্থিতিতে তাদেরকে সমাজ থেকে বয়কটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী দম্পতির বড় ছেলে ওমর ফারুক জানান, সর্বশেষ বৈঠকে সমাজপতিরা আমার বাবা-মাকে আলাদা করে। বাবা-মায়ের সঙ্গে আমাদের কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়নি। তারা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন করে তুলেছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. প্রত্যয় হাসান অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়ভাবে উভয়পক্ষের সঙ্গে বসে মীমাংসার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। আমি নিজেও সেখানে উপস্থিত থাকব।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি