বগুড়ায় পাটের দরপতন

করোনায় পণ্য পরিবহনে জটিলতা

স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পাটের দাম কমে গেছে। মণপ্রতি পাটের দর কমেছে ১ হাজার টাকা। দুই সপ্তাহ আগেও প্রতি মণ তোশা পাট সাড়ে ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পাট ব্যবসায়ী ও চাষিরা জানান, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পণ্য পরিবহনে জটিলতা এবং ঈদের ছুটিতে ২০টি পাটকল ও ক্রয়কেন্দ্র বন্ধ ছিল। তাই পাটের বাজারমূল্যে এমন ধস নেমেছে।

প্রতি শনিবার সারিয়াকান্দি সদরে পাটের হাট বসে। হাটে প্রতি মণ পাট ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। সারিয়াকান্দি হাটে তিন মণ পাট বিক্রি করতে এসেছিলেন কুড়িপাড়া চরের পাটচাষি ধলু ফকির (৭২)। তিনি বলেন, ‘১৫ দিন আগেও হাটে এক মণ পাট এনে দাম পেয়েছি ৩ হাজার ৪০০ টাকা। কিন্তু শনিবার সেই পাট বেচে পাওয়া গেল ২ হাজার ৪০০ টাকা।’ কুড়িপাড়া চরের কৃষক সবুজ ফকির (৪৫) বলেন, ‘এক মণ পাটে ১ হাজার টাকা দাম কমে গেছে।’

সারিয়াকান্দি হাটের পাটের ব্যাপারী আবদুর রশিদ (৫৫) বলেন, সপ্তাহ দুয়েক আগেও এই হাটে গড়ে ১ হাজার ২০০ মণ পাটের আমদানি ছিল। প্রতি মণ পাট বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকা দরে। বিধিনিষেধের মধ্যে হাট বসলেও এখন পাটের আমদানি অর্ধেকে নেমে এসেছে। পড়ে গেছে দামও। মানভেদে প্রতি মণ পাট এখানে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই ব্যবসায়ী আরো বলেন, এর আগে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে পণ্য পরিবহনে জটিলতা দেখা দেয়। মোকামে পাটবাহী ট্রাক পাঠানো যায়নি। আবার ঈদের ছুটিতে জেলার প্রায় ২০টি পাটকল এবং ক্রয়কেন্দ্রও বন্ধ ছিল। এ কারণে হাটে পাটের আমদানি ও দাম দুই পড়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল হালিম বলেন, গত বছর ৭ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হলেও কয়েক দফা বন্যায় বেশির ভাগ পাট খেতেই নষ্ট হয়ে যায়। এবারও এই উপজেলায় ৭ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। চরের কৃষকরা খেত থেকে পাট কেটে জাগ দিয়ে ঘরে তুলছেন। এবার লাভের আশা ছিল। কিন্তু বিপত্তি ঘটল দাম নিয়ে।