চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের মালিকানাধীন এলপি গ্যাস লিমিটেডের (এলপিজিএল) গেট থেকে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ থাকায় সাধারণ ভোক্তারা বিপাকে পড়েছেন। করোনায় লকডাউনের অজুহাত দেখিয়ে গত ৬ জুলাই থেকে গেটে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। আগে ভোক্তারা ফ্যাক্টরি গেটে যে সিলিন্ডার কিনতে পারতেন ৫৯১ টাকায় সেটাই তাদেরকে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এছাড়া মধ্যস্বত্বভোগী ডিলারদের পাশ কাটিয়ে সরাসরি ভোক্তাদের কাছে গ্যাস বিক্রির সুবাদে গত দুই অর্থবছরে অর্ধকোটি টাকার বেশি বাড়তি মুনাফা করেছে এলপি গ্যাস লিমিটেড। কিন্তু নতুন সিদ্ধান্তের কারণে বাড়তি মুনাফার সুযোগ আর থাকছে না। সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, বিপিসির একটি মার্কেটিং কোম্পানির ডিলারদের বাড়তি সুবিধা দিতেই ভোক্তা পর্যায়ে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। তারা বলেন, স্বার্থান্বেষী মহলের কারসাজিতে সাধারণ ভোক্তারা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তেমনি কোম্পানিও বাড়তি মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। জানতে চাইলে এলপিজিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু হানিফ ইত্তেফাককে বলেন, ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রির সিদ্ধান্ত করোনার কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ আছে। বিপিসির নির্দেশনা পেলে এটি পুনরায় চালু করা হবে। জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে দুই বছর আগে ফ্যাক্টরি গেট থেকে ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাস বিক্রি শুরু করে এলপি গ্যাস লিমিটেড। শুরু থেকেই ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এই পদ্ধতি। এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার ভোক্তা কার্ড ইস্যু করা হয়েছে যাদের অধিকাংশই এলাকার স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী। একটি পরিবারের জন্য বরাদ্দ মাসে সর্বোচ্চ দুটি সিলিন্ডার। ফ্যাক্টরি থেকে সরাসরি ভোক্তার কাছে বিক্রি করা হয় বলে মধ্যস্বত্বভোগী ডিলারের মুনাফার সুযোগ থাকে না। এই সুবাদে এ খাতে বিগত দুই অর্থবছরে প্রায় ৫৫ লাখ টাকা বাড়তি মুনাফা করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই মুনাফাকে প্রকৃত মুনাফা বলতে চান না প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবু হানিফ। তিনি বলেন, এটা আসলে সিবিএ নেতাদের ব্যবসা। ভোক্তার নাম ব্যবহার করে তারা ব্যবসা করে যাচ্ছে। এই অভিযোগ অস্বীকার করে এলপিজিএল সিবিএ সভাপতি মো. জহুর আলম ইত্তেফাককে বলেন, সিবিএর কোনো নেতা এই কাজে জড়িত না। ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাস বিক্রির সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের একটি মানবিক উদ্যোগ। আমাদের এই উদ্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে প্রশংসিত হয়েছে। বিপিসি তাদের অন্যান্য বিপণন কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে এভাবে সিলিন্ডার বিক্রির করার পরামর্শ দিয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ গেট থেকেই সাশ্রয়ী মূল্যে সরাসরি এলপি গ্যাস কিনতে পারে। কিন্তু সরকার অনুমোদিত বিশেষ সুবিধাটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে একটি মহল কলকাঠি নাড়ছে।
সূত্র জানায়, বিপিসির অন্যতম মার্কেটিং কোম্পানি এসএওসিএল বর্তমানে এলপি গ্যাস বিক্রি করতে পারে না। তাদের ডিলাররা এলপিজিএল থেকে গ্যাস সংগ্রহ করেন। এসব ডিলারের কয়েক জনের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো মালিকের নামে চার/পাঁচটি ডিলারশিপ রয়েছে। একেকজন ডিলার দৈনিক সর্বোচ্চ ২৫টি সিলিন্ডার পাওয়ার কথা। কিন্তু এলপিজিএলের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে কেউ কেউ দৈনিক ৫০টি সিলিন্ডারও নেন। বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে গ্যাস বিক্রি বন্ধের পেছনে এসব ডিলারের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।